বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে কলকাতা। তখন উত্তরের জনজীবন অসহ্য গরমে পুড়ছে। আবহাওয়ার দুই ছবি দুই বঙ্গে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত তিলোত্তমা। অথচ উত্তরের পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে আধঘণ্টা রোদে হেঁটে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি নামতে কপাল আরও বেশি পুড়ছে। পরক্ষণে তেড়েফুঁড়ে বাড়ছে অসহ্য গরমের অস্বস্তি। ওই পরিস্থিতিতে দিনে পুজোর কেনাকাটাতেও ভাটার টান স্পষ্ট।
একটানা ভারী বর্ষণে কার্যত থমকে দাঁড়িয়েছে কলকাতার জনজীবন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলগুলিতে মঙ্গলবার থেকেই পুজোর ছুটি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহানগরীর ঠিক উল্টো ছবি উত্তরে। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে কখনও-সখনও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় নীল আকাশ। সকাল থেকেই চড়চড়িয়ে বাড়ছে রোদের তেজ। বেলা গড়াতে শিলিগুড়ি শহরের রাজপথে ছাতা অথবা টুপি ছাড়া চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুজোর প্রাক্কালেও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে পা রাখছেন না অনেকেই।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ৩৫ ডিগ্রি থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় সেটাই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভব হচ্ছে। কার্যত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। পরদিনই ৩ ডিগ্রি বেড়ে হয়েছে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ১ ডিগ্রি বেড়ে হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার ছিল ৩৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন গুমোট গরমে দিনের বেলা বাজারে খুব একটা ভিড় জমছে না। ক্রেতাদের বেশিরভাগ বাতানুকূল শপিংমলগুলো কেনাকাটার জন্য বেছে নিচ্ছেন। তবে বিকেলের পর থেকে গমগম করছে শহরের বিধান মার্কেট, হকার্স কর্নার-সহ প্রতিটি বাজার। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, "২৬ এবং ২৭ সেপ্টেম্বর উত্তরে পাহাড়-সমতলে মাঝারি মাপের বৃষ্টি হতে পারে। তার আগে বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গুমোট গরম থাকবে।"
