বিধানসভা নির্বাচনের আগে শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। এই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকার বেশি নগদ উদ্ধার করেছে ফ্লাইং স্কোয়াড টিম (এফএসটি) ও স্ট্যাটিক সার্ভেইলেন্স টিম (এসএসটি)। বেশিরভাগ ঘটনায় টাকার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি অভিযুক্তরা। এই কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করে টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের এম.ডি. রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় এফএসটির একটি দল। সেখান থেকে প্রেম কুমার দাস নামের ২৬ বছর বয়সি এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪ লক্ষ ৩ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রেম জানান, এই টাকাগুলি তাঁর ব্যবসার টাকা। কিন্তু কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি তিনি। সেই কারণে টাকাগুলি বাজেয়াপ্ত করে কলকাতা কালেক্টরেট ট্রেজারিতে জমা করা হয়। অন্যদিকে, আজ ভোর ৫টা নাগাদ সুইং ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নীরজ কুমার গুপ্তের কাছ থেকে ২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা পাওয়া যায়। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এই নগদ বাজেয়াপ্ত করে সাউথ পোর্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, এদিনই ডায়মন্ড হারবার রোডে জোকা ট্রাম ডিপো সংলগ্ন এলাকায় একটি সাদা রঙের গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে এসএসটির একটি দল। ৫০০ টাকার ১০টি বান্ডিলে টাকাগুলি ভাগ করা ছিল বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তরা টাকার উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় নগদ, ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করে গাড়িটি আটক করা হয়। পরে অভিযুক্তদের ১৫৩ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্য একটি ঘটনায়, গার্ডেনরিচ থানার অধীনে নেচার পার্ক সংলগ্ন সন্তোষপুর রোড ও তারাতলা রোডের মোড়ে এফএসটি-৬-এর একটি দল অভিযান চালায়। একটি অ্য়াপ ক্যাবে সচিন সাবু নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সচিন জানান, তিনি একজন পোশাক ব্যবসায়ী। কিন্তু নগদের কোনও বৈধ নথি দেখাতে পারেননি তিনি। সেই কারণে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে এই ধরনের তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
