সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: বছর পাঁচেক আগের কথা। এভারেস্টে কলকাতা পুলিশের পতাকা উড়িয়ে নজর কেড়েছিলেন উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানার তৎকালীন ওসি উজ্জল রায়। ‘নবদিশা’ প্রকল্পের ফুটপাথের কচিকাঁচাদের ম্যাজিক দেখিয়ে তারিফ কুড়িয়েছিলেন উত্তর বন্দর থানার ওসি পার্থ মুখোপাধ্যায়ও। এবার কলকাতা পুলিশের মুখ উজ্জ্বল করলেন কনস্টেবল অরূপ কুমার মুখোপাধ্যায়। পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে শবর সন্তানদের জন্য নিজের বেতনের টাকায় আবাসিক স্কুল খুলেছেন তিনি।
[সংরক্ষিত কামরায় বস্তার পাহাড়, চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গেলেন মহিলা]
কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি করেন। কর্মসূত্রে থাকতে হয় এই শহরেই। কিন্তু, অরূপ কুমার মুখোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি পুরুলিয়ার পুঞ্চার পারুই গ্রামে। ছোটবেলা থেকে দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখেছেন। সংকল্প নিয়েছিলেন, পিছিয়ে পড়া এই জনজাতির জন্য কিছু করবেন। দাদু বলরাম মুখোপাধ্যায়কে সেকথা জানিয়েওছিলেন। নাতির কথা শুনে দাদু বলেছিলেন, ‘আগে পড়াশোনা শিখে চাকরি পেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াও। এরপর তুমি সেই কাজ করো।’ দাদুর সেই নির্দেশই পালন করেছেন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল অরূপকুমার মুখোপাধ্যায়।
[ফেসবুক করায় বকুনি, অভিমানে আত্মঘাতী মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী]
পড়াশোনা শেষ করে কলকাতা পুলিশের কনস্টেবলে পদে চাকরির জন্য আবেদন করেন অরূপ। চাকরি পেয়েও যান। ১৯৯৯ সালে কলকাতা পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন অরূপ। তিনি বলেন, ‘চাকরি পাওয়ার পরেই আমি শবরদের জন্য কিছু ভাল কাজ করার চেষ্টা শুরু করি। পুঞ্চায় আমার এক আত্মীয়ের দশ কাঠা জমি ছিল। সেই জমিতে আমাকে দান করেন তিনি।’ প্রথমে বেতনের টাকা দিয়ে সেই জমিতে শবরদের জন্য স্কুল খুলতে চেয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের এই কনস্টেবল। কিন্তু, টাকায় টান পড়ায় শেষপর্যন্ত ঋণ নিতে হয় তাঁকে। কলকাতা পুলিশেরই সমবায় ব্যাংকে মায়ের চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ নেন তিনি। ২০১১ সালে পুঞ্চায় শুরু শবরদের জন্য আবাসিক স্কুল। তখন পড়ুয়া ছিল মাত্র ১০ জন। এখন অরূপবাবুর আবাসিক স্কুলের পড়াশোনা করেন ১১২ জন শবর সন্তান। তাঁর বেতনের বেশিরভাগটাই স্কুলের জন্যই খরচ করেন। শবরদের কাছে ‘পুলিশবাবা’ নামে পরিচিত কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল অরূপকুমার মুখোপাধ্যায়।
[বাড়িতে ঢুকে ফিল্মি কায়দায় কাউন্সিলরের শাশুড়িকে গুলি করে খুন]
কলকাতা পুলিশের তৃতীয় ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন পুরুলিয়ার অরূপ কুমার মুখোপাধ্যায়। একসময়ে নিউ আলিপুর থানায়ও কর্মরত ছিলেন। বছর খানেক আগে বদল হয়ে যান দক্ষিণ ট্রাফিক গার্ডে। অরূপ কুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘তৎকালীন ডিসি (দক্ষিণ) মুরলিধর শর্মাও আমাকে শবরদের পাশে থাকার জন্য অনেক সাহায্য করেছিলেন। এই কাজ যাতে করতে পারি, তার জন্য আমি আবেদন করেছিলাম নগরপাল রাজীব কুমারের কাছে। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে যুগ্ম নগরপাল (এস্টাবলিশমেন্ট) সুজয় চন্দ আমাকে ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট দেন।’
[নগ্ন ছবিতে মুখ বসিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট, পুলিশের দ্বারস্থ তরুণী]
The post বেতনের টাকায় পুরুলিয়ার গ্রামে আবাসিক স্কুল, মানবিকতার নজির কনস্টেবলের appeared first on Sangbad Pratidin.
