সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে শিশু নিগ্রহের কনটেন্ট। নানা ভুয়ো কন্টেন্টে ভরে যাচ্ছে সমাজমাধ্যম। সেসব রুখতে কড়া পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একটি করে পোস্ট ব্লক করার জন্য সোশাল মিডিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে নোটিস (Social Media Content Block Order) দেওয়া হয়েছে। গত মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এই কড়াকড়ি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তরফে আরটিআই করে পাওয়া কিছু তথ্য় যাচাই করে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ মাসে অন্তত ১ লক্ষ ৯৫ হাজার পোস্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম-এক্সের মতো সোশাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষকে। অর্থাৎ প্রত্যেকদিন ব্লক করা হয়েছে ১২৭৫টি পোস্ট। ৬৮ সেকেন্ডের মাথায় একটি করে পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সোশাল মিডিয়া থেকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৫ অক্টোবর-এই এক বছরে ব্লক করা পোস্টের সংখ্যা ছিল ২৩১২। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকে বেড়েছে সোশাল মিডিয়ায় কড়াকড়ি।
ব্লক হওয়া পোস্টের অধিকাংশই ইনস্টাগ্রামের। গত পাঁচ মাসে ইনস্টগ্রাম থেকে অন্তত ১ লক্ষ পোস্ট ব্লক করা হয়েছে। ফেসবুকে ব্লক হওয়া পোস্টের সংখ্যা অন্তত ৮০ হাজার। অর্থাৎ মেটার অধীনস্থ সোশাল মিডিয়াগুলির উপরেই কোপ পড়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ডিপফেক, বিকৃত তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে লাগাম টানতে মেটার উপর চাপ বাড়িয়েছে মোদি সরকার। অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি, এই ধরনের কনটেন্টের মোকাবিলায় সংস্থাটি কী কী পদক্ষেপ করবে, তার একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
কেন্দ্র ও মেটা কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর টেক জায়ান্টকে একাধিক শর্ত মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। বিকৃত ছবি ও ডিপফেক রুখতে সরকারের ‘কুইক রেসপন্স টিম’-এর সঙ্গে সরাসরি ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে মেটাকে। সরকারি সহযোগ পোর্টালের সঙ্গেও যৌথভাবে কাজ করবে তারা। সরকারি নির্দেশ পাওয়ামাত্র এই পোর্টালের সাহায্যে কন্টেন্ট সরিয়ে দেওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ডিপফেকের পাশাপাশি নিট প্রতিবাদ, ই২০ বিতর্ক এবং বাংলার বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত পোস্টও সরানো হয়েছে।
