অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ। সরকারি জমি অনৈতিকভাবে বেসরকারি একটি আবাসন সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। মহেশতলার জিঞ্জিরাবাজারে ৫২ বিঘা সরকারি জমি ও ১১টি পুকুর ভরাট করে আবাসন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। বেআইনিভাবে এই জমি হস্তান্তরে হাজার কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতি হয়েছে বলে মঙ্গলবার মহেশতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলায় জিঞ্জিরাবাজার সংলগ্ন এলাকায় ৫২ বিঘা সরকারি জমি ও তৎসংলগ্ন ১১ টি বড় পুকুর ছিল। এক একটি পুকুর ১৫-২০ বিঘা আয়তনের। ১৯৬৮ সালে রাজ্য সরকার কর্মহীন যুবকদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে ওই ৫২ বিঘা জমি পি সি চন্দা অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড নামক একটি সংস্থাকে ৯৯ বছরের লিজ হিসেবে দেয়। শর্ত ছিল, ওই জমি কোনওভাবেই বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তবে ২০১৪ সালে অভিষেক সাংসদ হওয়ার পর ২০১৬ সালে জমির লিজের দলিল রাতারাতি বদলে যায়। বেআইনিভাবে জায়গায় জায়গায় মুছে পরিবর্তন করে নেওয়া হয় দলিলটি। ববির অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওই জমি বেসরকারি আবাসন সংস্থা মেসার্স সৃজন রিয়েলটি প্রাইভেট লিমিটেডকে বেআইনিভাবে পাইয়ে দেওয়া হয়। আর এই অনৈতিক কাজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক ও তৃণমূল নেতৃত্ব জড়িত। ১১ টি বড় বড় পুকুরে মাটি ফেলে ভরাটের কাজ চলতে থাকে। এরপর আবাসন গড়ার কাজ শুরু হয়। ৫২ বিঘা ওই জমির ৭৫ শতাংশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লজিস্টিক পার্ক ও ২৫ শতাংশে আবাসিক অথবা বাণিজ্যিক মল বানানোর জন্য ভাগ করা হয়। আজ সেখানেই রমরমিয়ে চলছে সৃজন রবি লজিস্টিক পার্ক।
এই গোটা বেআইনি কাজের সঙ্গে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৎকালীন জেলাশাসক, মহকুমাশাসক-সহ একাধিক আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস অফিসাররা এবং মহেশতলা পুরসভার কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ও অভিষেক অনুগামী তৃণমূল নেতৃত্ব জড়িত বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন অভিজিৎ দাস। বিজেপি নেতার দাবি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জমি বেআইনিভাবে আবাসন সংস্থাকে পাইয়ে দিয়ে হাজার কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতি হয়েছে। এই দুর্নীতির অভিযোগে সিট গঠন করে তদন্ত চেয়ে এদিন মহেশতলা থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। বিজেপি নেতার দায়ের করা অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও নাম রয়েছে তৎকালীন জেলাশাসক, মহকুমাশাসক-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিক এবং মহেশতলা পুরসভার কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান ও অভিষেক অনুগামী তৃণমূল নেতৃত্বের।
