shono
Advertisement
TMC

বিজেপিতে 'নো এন্ট্রি'! দলত্যাগী তৃণমূল কর্মীদের নজরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন

বিজেপির অন্দরে পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন একাংশ।
Published By: Kousik SinhaPosted: 09:12 AM Jul 07, 2026Updated: 09:12 AM Jul 07, 2026

বিজেপিতে 'নো এন্ট্রি'। তাই ঘুরপথে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনে নাম লেখাচ্ছেন তৃণমূলিরা। অন্তত একাংশ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা যে সেই চেষ্টাতেই রয়েছেন, সেটা সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, সেই সংগঠনগুলির নেতাদের ছত্রছায়ায় আসার পরই দিব্যি দাপট শুরু করছেন সেই দলবদলুরা। আর এতেই কার্যত অতিষ্ঠ বিজেপির একাংশ। দিনহাটার বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুন এই বিষয়টি সোশাল মিডিয়াতেও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, যারা এতদিন তৃণমূলে ছিল তারাই এখন বজরং দল বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদে নাম লেখাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি বিজেপিতে এই মুহূর্তে তৃণমূলিদের যোগদান বন্ধ থাকাতেই এই ঘুরপথে তারা গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে চাইছে!

Advertisement

বজরং দলের দিনহাটা নগর সংযোজক রূপম সাহা বলেন, "বিজেপি নেত্রী যে অভিযোগ করেছেন, সেটা ঠিক নয়। বজরং দলে কোনও তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে নেওয়া হচ্ছে না। বজরং দল সেখানে যা কাজ করেছে, সেটা সমাজ সেবামূলক কাজের অঙ্গ।"

সম্প্রতি কয়েকটা অনুষ্ঠানে সেই আভাসও মিলেছে। কোচবিহারের কালীঘাট এলাকায় হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তৃণমূলের কাউন্সিলর ভূষণ সিং-সহ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এমনকী সেই ঘটনার পর বিতর্ক শুরু হলে ভূষণ সিং স্পষ্ট করে দেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দল করবেন না। তবে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সঙ্গে থাকবেন। এবার দিনহাটাতেও একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, সেখানে বজরং দলের নাম করে একটি খাবারের দোকানে অভিযান চালানো হয় এবং কার্যত সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

যদিও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উত্তরবঙ্গের সহ-সংযোজক সুমন কর্মকার জানিয়েছেন, হিন্দুত্ববাদী কোনও সংগঠনে অপরাধী, টাকা চুরি করেছে বা তোলাবাজি করেছে, তাদের কোনও স্থান নেই। সেটা হিন্দু জাগরণ মঞ্চ হোক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বা বজরং দল, সকলের সামনে এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তার পরও কেউ এই ধরনের কাজে জড়িয়ে থাকলে, তার বিরুদ্ধে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বজরং দলের দিনহাটা নগর সংযোজক রূপম সাহা বলেন, "বিজেপি নেত্রী যে অভিযোগ করেছেন, সেটা ঠিক নয়। বজরং দলে কোনও তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে নেওয়া হচ্ছে না। বজরং দল সেখানে যা কাজ করেছে, সেটা সমাজ সেবামূলক কাজের অঙ্গ।"

দিনহাটার বিজেপি নেত্রী শাবানা খাতুন সোশাল মিডিয়ায় লিখে দাবি করেছেন, 'বিজেপি জেতার পর দিনহাটায় বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নামে যে সব নোংরামো চলছে। এটা বন্ধ না হলে আগামীতে দিনহাটার মানুষ ভালো থাকবে না। যে সব ছেলেরা আগে তৃণমূলের দালালি করত এবং তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে ঘুরত, তারা এখন নাকি দিনহাটায় বজরং দলের সদস্য এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য।'

এদিকে বিজেপির অন্দরে পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়া নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন একাংশ। বিজেপি নেতা পঙ্কজ বুচ্চা, অজয় সাহা-রা সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'পুরনো বিজেপি কর্মীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে দায়িত্বে আনা দরকার, শুধুমাত্র হাতেগোনা কয়েকজনকে নিয়ে জেলা চলতে পারে না । এইভাবে চলতে থাকলে তার পরিণাম খারাপ হবে।' স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনা অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিজেপির অন্দরে। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, বজরং দল বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। তবে যে সমস্ত বিজেপি নেতৃত্ব পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন, তাদের তথ্য ঠিক নয়। বর্তমানে পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব ও সম্মান দিয়ে কাজ চলছে। সবাইকে পদাধিকারী করা সম্ভব নয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement