রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পালাবদলের পর রাজ্যে চালু হচ্ছে ১২৫ দিনের কাজ। আর এই কাজে যাতে দুর্নীতির অভিযোগ না উঠে তার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চলেছে কেন্দ্র। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে এই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল সবথেকে বেশি। এবার সেই ফাঁক বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। যার পোশাকি নাম, জিও ফেন্সিং। সহজ ভাষায় বললে কাজের এরিয়াকে ডিজিটাল বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া।
কীভাবে কাজ করবে প্রযুক্তি? কাজ শুরুর আগে সুপারভাইজারকে তাঁর ফোনে কাজের জায়গার ম্যাপ বানাতে হবে। কাজের সময়ে শ্রমিকরা ওই ম্যাপের ১০ মিটারের মধ্যে থাকলে তবেই মিলবে টাকা। কেউ এরিয়া ছেড়ে বেরিয়ে গেলেই সিস্টেমে লাল দাগ দেখাবে। সেই শ্রমিক অনুপস্থিত বলে ধরা হবে। পারিশ্রমিকের টাকা আটকে যাবে। প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, এর ফলে ভুয়ো হাজিরা, কাজ না করেই টাকা তোলা, এক জায়গার কাজ অন্য জায়গায় দেখানো সব বন্ধ হবে। এর ফলে উপভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। আধিকারিকরা আশা করছেন এই প্রযুক্তি চালু হলে ১২৫ দিনের কাজে স্বচ্ছতা ফিরবে।
ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি ব্লকে শুরু হয়েছে ১২৫ দিনের কাজ। আগামীতে জেলাজুড়ে চালু হবে কাজ। জানা যাচ্ছে, সর্বত্র জিও ফেন্সিং দিয়ে কাজ শুরু করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাঙড় ও সাগর ব্লকে ১২৫ দিনের কাজের কর্মসূচি শুরু হলেও আগামী দিনে তা জেলার ৩১০ টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ চলবে। প্রতিটি ব্লকে প্রায় ৫০ হাজার করে জব কার্ড হোল্ডার আছে। এই কাজে অদক্ষ শ্রমিকরা ৩০০ টাকা মজুরি পাবেন এবং অল্প দক্ষ শ্রমিকরা সাড়ে চারশো টাকা মজুরি পাবেন বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে যে মজুরি পাওয়া যেত তার থেকে বেশ খানিকটা বাড়ানো হয়েছে।
