মৌসমের (Mausam Noor) পর এবার তাঁর দিদি লিজুকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেস শিবিরের খবর, আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মালদা (Malda) জেলার সুজাপুর আসনে লিজুকে প্রার্থী হিসাবে পেতে চাইছে কোতোয়ালি। সেক্ষেত্রে মালদহ উত্তরের রতুয়া অথবা মালতিপুর আসনে দাঁড়াতে পারেন মৌসম নূর। কিন্তু, পথের কাঁটা নাগরিকত্ব। জানা গিয়েছে, সমস্যা রয়েছে লিজুর নাগরিকত্ব নিয়ে।
এই প্রশ্নেই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে মালদহের (Malda) কোতোয়ালির গনি পরিবার। কিন্তু লিজুর নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্যা জানার পড়েই নড়েচড়ে বসেছে কংগ্রেস। জানা গিয়েছে, তাঁর নাগরিকত্ব বিষয়ক ফাইলপত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা কংগ্রেস শিবির। লিজু যদি সুজাপুর আসনে প্রার্থী হন, তাহলে কোন আসনে মৌসম নূর? এমন প্রশ্নেও কংগ্রেস শিবিরে চর্চা চলছে। যদিও জেলার কংগ্রেস সভাপতি সাংসদ ইশা খান বলেন, "জেলার একাধিক এলাকা থেকেই দলীয় কর্মীরা মৌসমকে তাঁদের বিধানসভা আসনে চাইছেন। সেটা নিয়ে খুব শীঘ্রই আমরা জেলা কমিটির বৈঠকে বসব। যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটা দিল্লিতে পাঠিয়ে দেব।"
কংগ্রেসের একটি সূত্রের দাবি, মৌসম নূর কংগ্রেসে ফিরতেই লিজু ওরফে সৈয়দা সালেহা নূরের ভারতের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিয়েছে কোতোয়ালি। মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরির সহধর্মিনী লিজু এখনও কানাডার নাগরিক। প্রাক্তন সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরির (ডালু) ছেলে ইশা খানের সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই লিজু কোতোয়ালিতে রয়েছেন। কিন্তু এতদিন পরেও ভারতের নাগরিকত্ব নেননি। এবার লক্ষ্য, নাগরিকত্ব নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা। মৌসমের 'ঘর ওপসি'র সময় লিজুও দিল্লিতে ছিলেন। সেখানে নাগরিকত্বের আবেদন সংক্রান্ত বকেয়া কাজকর্ম শেষ করেন বলে খবর। তাঁর সহধর্মিনী লিজু কি এবার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে প্রার্থী হতে চলেছেন? জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ইশা খান চৌধুরি বলেন, "লিজুর নাগরিকত্বের আবেদন সংক্রান্ত ফাইলপত্র তৈরির কাজ সেরে ফেলা হয়েছে। এখন লিজুর সিদ্ধান্তের উপর বিষয়টি নির্ভর করছে। লিজু চাইলেই রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। এতে আমার কোনও আপত্তি নেই।"
প্রয়াত বরকত গনি খান চৌধুরির কোতোয়ালির বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যরা একের পর এক রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। গনির জীবদ্দশায় তাঁর বোন রুবি নূর সুজাপুর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। রুবির প্রয়াণের পর রাজনীতিতে আসেন অন্যান্যরাও। রুবির মেয়ে মৌসম এবং পরে গনির সুইজারল্যান্ড ফেরত দাদা আবু নাসের খান ওরফে লেবু আসেন রাজনিতির ময়দানে। এছারাও, ডালুপুত্র ইশা খান এবং আরও এক ভাগনি শেহনাজ কাদরি, প্রত্যেকেই রাজনীতিতে নেমে পড়েছেন। এবার গনির বিদেশ ফেরত ভাগনি লিজুও রাজনীতিতে নেমে পড়তে চলেছেন বলে কোতোয়ালির অন্দর মহলের খবর।
