হুগলির রিষড়ার ভাড়াবাড়িতে উদ্ধার হয়েছিল স্ত্রীর গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ! স্বামী তাঁকে 'খুন' করে পালিয়েছেন, এমনই অনুমান করেছিলেন তদন্তকারীরা। আজ, শনিবার দুপুরে ওই যুবক বেলগাছিয়া মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়েছিলেন! পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রী মণিকা ওঝাকে 'খুন' করে শেষপর্যন্ত 'আত্মঘাতী' হয়েছেন দীপঙ্কর সরকার। ঘটনায় রিষড়া তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি এলাকায় প্রতিবেশীরা হতবাক। ওই দম্পতির ছয় বছরের এক শিশুকন্যা রয়েছে। এরপর তার কী হবে? সেই দুশ্চিন্তায় প্রতিবেশীরা।
শনিবার সকালে ওই এলাকার ভাড়াবাড়িতে বছর ৩২ বয়সী মনিকা ওঝার গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃতদেহের পাশেই তাঁর ছয় বছরের শিশুকন্যা ঘুমাচ্ছিল। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তাঁর স্বামী দীপঙ্কর সরকার কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার রিষড়ার বাড়িতে আসেন দীপঙ্কর। রাতে ঘর থেকে ঝগড়ার শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। শনিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন স্থানীয়রা। তখনই তাঁরা দেখতে পান বিছানায় মহিলার গলা কাটা দেহ পড়ে রয়েছে।
রিষড়া থানার পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় দীপঙ্করের খোঁজ চালাতে থাকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ঘরে একটা শাড়ি ঝুলন্ত অবস্থায় পেয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে শ্বাসরোধ করে পরে গলা কেটে খুন করা হয়েছে মণিকাকে। স্বামী স্ত্রীকে খুন করে পালিয়েছেন! এমনই প্রাথমিক অনুমান করেন তদন্তকারীরা। এদিকে এদিন দুপুরের পরে কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক যুবক লাইনে ঝাপ দিয়ে 'আত্মহত্যা' করেন। মৃতদেহ উদ্ধারের পর তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় জানা যায়। রিষড়া থানার তদন্তকারীরাও চমকে যান। জানা যায়, মেট্রোতে 'আত্মঘাতী' হওয়া যুবক খুন হওয়া মণিকার স্বামী দীপঙ্কর।
স্ত্রীকে খুন করে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন, এমনই অনুমান তদন্তকারীদের। কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন ওই যুবক। সেখান থেকে স্ত্রীর পরকীয়া রয়েছে বলে সন্দেহ ছিল! সেই সন্দেহ থেকেই খুন বলে পুলিশ অনুমান করছেন।
