ঝুলন্ত এক যুবকের দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল অশোকনগরের বেড়াবেড়ি পঞ্চায়েতের রাজবেরিয়া গ্রামে। মৃত ওই যুবকের নাম মনিরুল গোলদার (৩৭)। বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে 'ডিজিটাল অ্যারেস্টে'র আতঙ্ক। যদিও এক্ষেত্রে কোন ফোন কল বা সমাজমাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়নি। সিম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কাজ করার ভুয়া অভিযোগে বাড়িতে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন মনিরুল। আর সেই কারণেই এই ঘটনা বলে দাবি পরিবারের। ইতিমধ্যে স্থানীয় অশোকনগর থানাতে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কে বা কারা এই নোটিস পাঠালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগরের বেড়াবেড়ি পঞ্চায়েতের রাজবেরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মনিরুল পেশায় একজন মধু ব্যবসায়ী ছিলেন। গত ৮ জানুয়ারি তাঁর বাড়িতে ওই নোটিস আছে বলে জানা যায়। মনিরুলের এক প্রতিবেশী মোক্কাদেশ মণ্ডল বলেন, "মহারাষ্ট্রের পুনে সিটি সাইবার থানার নাম করে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ওই নোটিশ এসেছিল। তাতে উল্লেখ্য ছিল, মনিরুলের নামে সিম তুলে অপরাধমূলক কাজ করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে যোগাযোগ করতে হবে। এরপর থেকে খুব মনিরুল খুব আতঙ্কে ছিল। পুলিশের কাছেও ঘটনাটি জানিয়েছিলেন।"
জানা যায়, মধু সংগ্রহের কাজে অন্যত্র যাওয়ার কথা জানিয়ে বুধবার রাতে ব্যাগে জামা-কাপড় গুছিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মনিরুল। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে সুরিয়া খেলার মাঠের পাশের চায়ের দোকানের পিছনের আমগাছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এরপরই নোটিস দিয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখানোর কারণেই যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হন পরিবার ও পরিচিতরা। এই নিয়ে হাবড়া ২ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের কর্মাধ্যক্ষ গুপি মজুমদার বলেন, "নোটিস পাওয়ার পর থেকেই যুবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওর বাড়ির লোকেরা জানিয়েছে মনিরুল প্রথম থেকেই একটি মোবাইল নম্বরই ব্যবহার করে। সবটা জানিয়ে থানায় অভিযোগ হয়েছে। পুলিশের তদন্তেই সত্যি উঠে আসবে।" ঘটনায় শোকের ছায়া পরিবারে।
