ধীমান রায়, কাটোয়া: ডিসেম্বরে ফের দুর্গাপুজো! শীতকালে পাঁচদিন ধরে পুজো হবে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের চাকুলিয়া গ্রামে। এখন ‘অকালবোধন’-এর প্রস্ততিতে ব্যস্ত গ্রামবাসীরা।
এবছর দুর্গাপুজো শেষ। অপেক্ষা এক বছরের। কিন্তু, এরই মধ্যেই যদি কোনও অমঙ্গল ঘটে যায়! এই আশঙ্কায় এক বছর অপেক্ষা করতে রাজি নন মঙ্গলকোটের চাকুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। ডিসেম্বরে ফের দুর্গাপুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নিয়ম মেনে ১৩ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত পাঁচদিন গ্রামে দুর্গাপুজো হবে। কিন্তু, তিথি মেনে শরৎকালে তো দুর্গাপুজো হয়েছে মঙ্গলকোটের চাকুলিয়া গ্রামে। তাহলে কেন শীতকালে ফের শারদোৎসবের আয়োজন করতে চাইছেন গ্রামবাসীরা? মঙ্গলকোটের মাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চাকুলিয়া গ্রাম। গ্রামের কাছ দিয়েই বয়ে গিয়েছে অজয় নদ। চাকুলিয়া গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই কৃষিজীবী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গ্রামে চারটি সর্বজনীন দুর্গাপুজো। তবে ঘোষপাড়ার পুজোটিই সবচেয়ে পুরানো। প্রায় দেড়শো বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে। এবারও যথারীতি পুজো হয়েছে। কিন্তু, একাদশীতে প্রতিমা বিসর্জনের ঠিক আগেই ঘটে অঘটন।
[ লক্ষ্মীপুজোর আগে ফের দুর্গার আরাধনা দুর্গাপুরে, জানেন কেন?]
মঙ্গলকোটের চাকুলিয়া গ্রামের ঘোষপাড়া সর্বজনীন পুজো কমিটি কর্মকর্তা প্রকাশচন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, প্রতি বছর একাদশীর দিনে গোটা গ্রামে ঘুরিয়ে স্থানীয় একটি পুকুরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু, রাত ন’টার সময় যখন প্রতিমাকে পুকুরের পাড়ে আনা হয়, তখন দেখা যায়, দেবী দূর্গার শাড়ি ও সাজ দাউদাউ করে জ্বলছে। তড়িঘড়ি আগুন নিভিয়েও ফেলেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু, আতঙ্ক কাটেনি। চাকুলিয়া গ্রামের বাসিন্দারা ভয় পাচ্ছেন যে, দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের দিন এমন ঘটনা হয়ত কোনও অমঙ্গলের ইঙ্গিত। তাই পুরোহিতের নিদানে ডিসেম্বরের ফের পুজো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে এবার আর প্রতিমা নয়, চাকুলিয়া গ্রামে ঘোষপাড়া মন্দিরে ঘটে পুজো হবে। ১৩ ডিসেম্বর দেবীবোধন, পুজো চলবে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
[ দেড় কোটি টাকার নয়া লক্ষ্মীমন্দির ঘিরে উৎসাহ ময়ূরেশ্বরে]
