রিংকি দাস ভট্টাচার্য: ইদানীং ঝড় হলেই বুক কাঁপে৷ ঘোর গ্রীষ্মের বিকেলে আকাশ কালো করে আসা ঝড়-জলে গা জুড়োয় বটে, কিন্তু মুহুর্মুহু বজ্রপাতে বিপর্যয়েরও শেষ নেই৷ বিশেষত গ্রামেগঞ্জে বজ্রাহত হয়ে হামেশাই মানুষ মারা যায়৷ ফসলেরও ক্ষতি হয় বিস্তর৷
কালবৈশাখীর এই অন্য বিপদের মোকাবিলার উপায় খোঁজার নানা চেষ্টা চলছে৷ আর সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসছে যথেষ্ট আগে থেকে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা৷ যাতে নাগরিক ও প্রশাসন আগাম সতর্ক হয়ে প্রাণহানি বা শস্যের ক্ষতি রুখতে পারে৷
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে এর প্রাসঙ্গিকতা আরও বেশি৷ কারণ, দক্ষিণবঙ্গে এই ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ার পরিকাঠামো আবহাওয়া দফতরের হাতে থাকলেও, উত্তরবঙ্গে তা কার্যত শূন্য৷ উত্তরবঙ্গে রেডার-সহ এই ধরনের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু করার ব্যাপারে আপাতত চিন্তাভাবনা চলছে৷ সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত জাতীয় স্তরের এক আলোচনাচক্রেও প্রস্তাবটি গুরুত্ব পেয়েছে৷ কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের উপ মহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আলিপুরে যে রেডার রয়েছে, সেটিতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন্ জেলার ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়৷ উত্তরবঙ্গে রেডার বসলে সেখানকার জেলাগুলি ঝড়-বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে৷
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কালবৈশাখীর মেঘ খুব অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়৷ তাই আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না৷ এক্ষেত্রে তিন ধরনের বিপর্যয় ঘটে৷ ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত৷ বস্তুত, প্রতিবছরই বজ্রাঘাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে৷ চলতি বছর এ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে৷ ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের উত্তর হরিশপুর গ্রামের মন্দিরে চাতালে আশ্রয় নেওয়া ন’জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল বজ্রপাতে৷ বজ্রগর্ভ মেঘে তড়িতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াতেই মৃত্যু কি না তা অবশ্য হলফ করে বলা যাচ্ছে না৷ তবে, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্ষা আসার আগে ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপের জেরে স্থানীয়ভাবে যে মেঘের সঞ্চার হয় তাতে ‘বিদ্যুৎ’ খুব বেশি থাকে৷ এই মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার সময়ই ওই স্থির তড়িত্ পরিবর্তিত হয় বজ্রে৷
ঝড়বৃষ্টির এমন নানা রহস্যের উত্তর খোঁজার কাজ চলছে৷ আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচেছন, কালবৈশাখীর চরিত্র বুঝতে পারলে শুধু যে পূর্বাভাস ঠিকঠাক দেওয়া যাবে তা নয়, সমূহ বিপদ থেকে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হবে৷ সঞ্জীববাবুর কথায়, আমরা এখন ৪-৫ ঘণ্টা আগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিই৷ তা আরও আগে দেওয়া যায় কি না সে সম্পর্কে নানা মহলে আলোচনা চলছে৷ সঞ্জীববাবুর মতে, রাজ্যের এলাকাগুলিকে ঝড়-বৃষ্টিপ্রবণ চিহ্নিত করে যদি পূর্বাভাস দেওয়া যায়, তাহলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ আরও কমবে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি মহারাষ্ট্রের কথা তুলে ধরেন৷ “সেখান আঙুরচাষিরা শিলাবৃষ্টি থেকে বাঁচতে ফসলের উপর নেট টাঙিয়ে রাখেন৷ দক্ষিণবঙ্গেও চলতি বছর শিলাবৃষ্টিতে পান চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ সঠিক সময়ে পূর্বাভাস পেলে এ রাজ্যের চাষিরাও ফসল বাঁচাতে সক্ষম হবেন৷”–মন্তব্য সঞ্জীববাবুর৷
The post ঝড়ের পূর্বাভাস দিতে উত্তরবঙ্গে রেডার বসানোর ভাবনা appeared first on Sangbad Pratidin.
