shono
Advertisement

ঝড়ের পূর্বাভাস দিতে উত্তরবঙ্গে রেডার বসানোর ভাবনা

কালবৈশাখীর অন্য বিপদের মোকাবিলায় উপায় খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। The post ঝড়ের পূর্বাভাস দিতে উত্তরবঙ্গে রেডার বসানোর ভাবনা appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 10:14 AM May 04, 2017Updated: 04:44 AM May 04, 2017

রিংকি দাস ভট্টাচার্য: ইদানীং ঝড় হলেই বুক কাঁপে৷ ঘোর গ্রীষ্মের বিকেলে আকাশ কালো করে আসা ঝড়-জলে গা জুড়োয় বটে, কিন্তু মুহুর্মুহু বজ্রপাতে বিপর্যয়েরও শেষ নেই৷ বিশেষত গ্রামেগঞ্জে বজ্রাহত হয়ে হামেশাই মানুষ মারা যায়৷ ফসলেরও ক্ষতি হয় বিস্তর৷

Advertisement

কালবৈশাখীর এই অন্য বিপদের মোকাবিলার উপায় খোঁজার নানা চেষ্টা চলছে৷ আর সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসছে যথেষ্ট আগে থেকে কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা৷ যাতে নাগরিক ও প্রশাসন আগাম সতর্ক হয়ে প্রাণহানি বা শস্যের ক্ষতি রুখতে পারে৷

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে এর প্রাসঙ্গিকতা আরও বেশি৷ কারণ, দক্ষিণবঙ্গে এই ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ার পরিকাঠামো আবহাওয়া দফতরের হাতে থাকলেও, উত্তরবঙ্গে তা কার্যত শূন্য৷ উত্তরবঙ্গে রেডার-সহ এই ধরনের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালু করার ব্যাপারে আপাতত চিন্তাভাবনা চলছে৷ সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত জাতীয় স্তরের এক আলোচনাচক্রেও প্রস্তাবটি গুরুত্ব পেয়েছে৷ কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের উপ মহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আলিপুরে যে রেডার রয়েছে, সেটিতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন্ জেলার ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়৷ উত্তরবঙ্গে রেডার বসলে সেখানকার জেলাগুলি ঝড়-বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে৷

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কালবৈশাখীর মেঘ খুব অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি হয়৷ তাই আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়া যায় না৷ এক্ষেত্রে তিন ধরনের বিপর্যয় ঘটে৷ ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত৷ বস্তুত, প্রতিবছরই বজ্রাঘাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে৷ চলতি বছর এ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে মৃতের সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে৷ ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের উত্তর হরিশপুর গ্রামের মন্দিরে চাতালে আশ্রয় নেওয়া ন’জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল বজ্রপাতে৷ বজ্রগর্ভ মেঘে তড়িতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াতেই মৃত্যু কি না তা অবশ্য হলফ করে বলা যাচ্ছে না৷ তবে, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্ষা আসার আগে ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপের জেরে স্থানীয়ভাবে যে মেঘের সঞ্চার হয় তাতে ‘বিদ্যুৎ’ খুব বেশি থাকে৷ এই মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার সময়ই ওই স্থির তড়িত্‍ পরিবর্তিত হয় বজ্রে৷

ঝড়বৃষ্টির এমন নানা রহস্যের উত্তর খোঁজার কাজ চলছে৷ আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচেছন, কালবৈশাখীর চরিত্র বুঝতে পারলে শুধু যে পূর্বাভাস ঠিকঠাক দেওয়া যাবে তা নয়, সমূহ বিপদ থেকে মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হবে৷ সঞ্জীববাবুর কথায়, আমরা এখন ৪-৫ ঘণ্টা আগে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিই৷ তা আরও আগে দেওয়া যায় কি না সে সম্পর্কে নানা মহলে আলোচনা চলছে৷ সঞ্জীববাবুর মতে, রাজ্যের এলাকাগুলিকে ঝড়-বৃষ্টিপ্রবণ চিহ্নিত করে যদি পূর্বাভাস দেওয়া যায়, তাহলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ আরও কমবে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি মহারাষ্ট্রের কথা তুলে ধরেন৷ “সেখান আঙুরচাষিরা শিলাবৃষ্টি থেকে বাঁচতে ফসলের উপর নেট টাঙিয়ে রাখেন৷ দক্ষিণবঙ্গেও চলতি বছর শিলাবৃষ্টিতে পান চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে৷ সঠিক সময়ে পূর্বাভাস পেলে এ রাজ্যের চাষিরাও ফসল বাঁচাতে সক্ষম হবেন৷”–মন্তব্য সঞ্জীববাবুর৷

The post ঝড়ের পূর্বাভাস দিতে উত্তরবঙ্গে রেডার বসানোর ভাবনা appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার