সম্যক খান, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর পুরসভার একমাত্র কংগ্রেস কাউন্সিলারের নালিশের ভিত্তিতে পুরপ্রধানকে সতর্ক করল রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর। সেইসঙ্গে নাগরিক পরিষেবা ব্যহত হওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও পুরপ্রধান সৌমেন খান বলেন, এধরনের কোনও চিঠি তিনি এখনও পাননি।
পুরপ্রধান বলেছেন, "বিরোধীরা বিভিন্ন অভিযোগ করেই থাকেন। যিনি অভিযোগ করেছেন তাঁর ওয়ার্ডেই পুরসভা থেকে প্রচুর উন্নয়নের কাজ হয়েছে। কেবলমাত্র রাজনীতি করার জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলা হয়েছে।"
নাগরিক পরিষেবা ব্যহত হওয়ার অভিযোগ তুলে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে নালিশ জানান ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র কংগ্রেস কাউন্সিলার মহম্মদ সাইফুল। সম্প্রতি, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তা-ব্যক্তি থেকে শুরু করে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী-সহ খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এই চিঠিতে পুরসভার অচলাবস্থা থেকে শুরু করে লাগাতার ধর্মঘট-সহ পুর পরিষেবার মান খারাপ হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন।
সাইফুল বলেন, "কুড়ি বর্গকিলোমিটারেরও কম পুর এলাকার জন্য পরিষেবা দিতে ১৯০০ শ্রমিক কাজ করে। কিন্তু তাদের মধ্যে ৫০০ জন অদৃশ্য থাকে। আবার সরকারের অনুমোদন ছাড়াই চুক্তির ভিত্তিতে সীমাহীন লোক নিয়োগ করা হচ্ছে। অথচ তাদের সময়মতো বেতন দিতে পারছে না। বেতন দিতে পারছে না পেনশনভোগীদেরও।" তাঁর দাবি, "সকলেই প্রতিমাসেই একবার করে অফিস ধর্মঘট করেন। ধর্মঘট করতে থাকেন চুক্তিভিত্তিক কর্মী থেকে শুরু করে সাফাইকর্মীরাও। একপ্রকার বলতে গেলে ধর্মঘটের পুরসভা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
কাউন্সিলরের অভিযোগ, পানীয় জলের জন্য প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, শুকনো অবস্থায় বাড়ির সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাইপ বসানোর পর নষ্ট হয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো বছরের পর বছর ধরে মেরামত করা হচ্ছে না। ২০১৭ সাল থেকে নবনির্মিত ওভারহেড জলাধারগুলো জল ছাড়াই দাঁড়িয়ে আছে এবং এখন সেগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিপুল পরিমাণ পাইপ এখানে সেখানে মজুত করা আছে যা কেনা হলেও আজ পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি।
এর পাশাপাশি, গোটা শহরজুড়ে বেআইনী নির্মানের ছড়াছড়ি বলেও অভিযোগ করেছেন সাইফুল। তাঁর দাবি, সমস্ত নির্মাণ বিধি এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে, অনুমোদনবিহীন নির্মাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর দাবি, বোর্ড মিটিংয়ে বিরোধীদের কোনও অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না , তাদের অনুরোধগুলো রেকর্ড করাও হয় না। এমনকি বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্তও বাস্তবায়িত হয় না। ডামাডোলের কারনে আবর্জনা সংগ্রহ না করা, রাস্তার ধার নোংরা থাকা, রাস্তার আলো ভাঙা এবং রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের হারও অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ তাঁর।
যদিও, পুরপ্রধান সৌমেন খান বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দেখানো পথে মেদিনীপুর শহরজুড়ে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। এখনও প্রচুর উন্নয়নের কাজ চলছে। বিরোধীরা এসব দেখতে পাচ্ছে না। তারা কেবল রাজনীতি খুঁজছে। তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। পুরসভার উন্নয়ন নিজস্ব গতিতে চলছে।"
