রাতভর চলেছে তল্লাশি ও টাকা গোনা। মিলেছে মোট নগদ সাড়ে আঠাশ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা। এরপরই বৃহস্পতিবার সকালে অনুব্রত ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে উদ্ধার হওয়া নগদ ও সোনা। এদিন সকালে সিল করে দেওয়া হয়েছে মিনারের বাড়ি। প্রশ্ন হল, কোথা এল এত টাকা-সোনা? ধৃত মিনারের ছেলের দাবি, পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল নাকি তাঁদের বাড়িতে রেখে গিয়েছিল এই টাকা ও সোনা।
কে এই মিনার মণ্ডল? পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের একজন সাধারণ কর্মচারী হিসাবেই বীরভূমের মহম্মদবাজারে পরিচিত ছিলেন তিনি৷ ছেলের ভাল চাকরি, মেয়েরও বিয়ে হয় এক শিক্ষকের সঙ্গে৷ সব মিলিয়ে এলাকায় ‘ক্লিন ইমেজ’ ছিল মিনারের৷ তবে মিনারের উত্থানের কাহিনী বেশ চমকপ্রদ! স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু বছর আগে পর্যন্তও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থায় বাসের চালকের কাজ করতেন মিনার মণ্ডল। কিন্তু বছর চারেক আগে সেই সরকারি কাজ থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে টুলু মণ্ডলের ব্যবসার কাজ দেখাশোনাতেই মন দেন তিনি। জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডল ইজারা নিয়ে যে কয়েকটি ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) গেট চালাতেন, তারই মধ্যে রায়পুরের ডিসিআর গেটের দেখভাল করতেন মিনার। মহম্মদবাজার থানা এলাকার ডেউচা বাস স্ট্যান্ডের পাশেই তাঁর দোতলা বাড়ি আকারে বেশ বড় হলেও আলাদা করে বিশেষ নজরে পড়ে এমনটা নয়!
বুধবার অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ম্যানেজার অর্থাৎ মিনারের বাড়িতেই মেলে টাকার পাহাড়। টাকা গোনার মেশিন নিয়ে যায় পুলিশ। রাতভর তল্লাশিতে উদ্ধার হয় মোট সাড়ে আঠাশ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা। বৃহস্পতিবার সকালে মিনারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপরই ধৃতের ছেলে দাবি করে, তাঁদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা নাকি আদতে টুলুর। তিনিই সব রেখেছিলেন। যার জেরে জেলে যেতে হল মিনারকে।
