অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এখনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি বহু মহিলার। তা নিয়ে ক্রমশ চড়ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভের পারদ। গোটা পরিস্থিতির জন্য তৃণমূলকেই দুষলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে মহিলাদের বিক্ষোভে সামাল দিয়ে একথাই বললেন তিনি।
অগ্নিমিত্রা বলেন, "আমার মা-বোনেদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। যদি ধরি ২ কোটি মহিলার যদি আবেদন করেছেন, সেগুলি আপলোড করতে একটু সময় লাগবে। সেই সময়টা দিতে হবে।" ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, "বলতে খারাপ লাগছে, অনেক তৃণমূলের লোক ভিতরে বসে রয়েছে। অনেক গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকেও জানাচ্ছি।" বলে রাখা ভালো, এর আগে বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউড়িও একই অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্যদের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছেন। আর তার ফলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে আগামিদিনে সব ঠিক হয়ে যাবে বলেই দাবি তাঁর।
শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দপ্তরে যান অগ্নিমিত্রা। পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে যোগ দেন। দপ্তরে ঢোকার মুখে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া মহিলারা তাঁর সামনে বিক্ষোভ দেখান। আবেদন করার পরেও কেন অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকল না, সে প্রশ্ন করেন মহিলারা। এরপর জেলাশাসকের দপ্তরের ভিতরে ঢুকে বৈঠক করতে বসেন অগ্নিমিত্রা। সেই সময় জেলাশাসকের দপ্তরের নিচতলায় ঢুকে পড়েন। দুপুর আড়াইটে নাগাদ প্রশাসনিক বৈঠক মুলতুবি করে দেন মন্ত্রী। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা এবং বিধায়ক শংকর গুছাইতের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সামনে যান। তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। মন্ত্রী বিক্ষোভকারীদের ‘এনরোলমেন্ট নম্বর’ আধিকারিকের কাছে জমা দিতে বলেন। অগ্নিমিত্রা পালের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই দাবি সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেন। পালটা তাঁর বক্তব্য, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যের মহিলাদের বঞ্চিত করেছে বর্তমান সরকার।
