shono
Advertisement

Breaking News

MJN Medical College

জরুরি চিকিৎসায় কোচবিহারের মানুষকে ছুটতেই হচ্ছে অন্যত্র

সরকারি হাসপাতাল লক্ষ লক্ষ মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ভিত কতটা মজবুত? কোথায় দুর্বল স্বাস্থ্য পরিষেবা? পরিকাঠামোর অভাবই কি বাড়াচ্ছে রোগীদের দুর্ভোগ? চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা সচেষ্ট, তবু গাফিলতি কোথায়? ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অন্তর্তদন্ত। আজ দ্বাদশ পর্ব।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 07:06 PM Jul 25, 2026Updated: 07:06 PM Jul 25, 2026

খাতায়-কলমে জেলা হাসপাতাল উন্নীত করে তৈরি হয়েছিল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। কিন্তু পরিষেবার নিরিখে জেলা হাসপাতালের কার্যত পরিস্থিতিই এখনও কোচবিহারের এম জে এন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি এতটাই যে, প্রায় বছর দেড়েক আগে তৈরি হয়ে থাকা ৫০ বেডের নতুন ভবনে চিকিৎসা পরিষেবা চালুই করতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। পরিকাঠামোর প্রেক্ষিতে একটি সংস্থার সহযোগিতায় ট্রমা কেয়ার তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে ধুঁকছে সেই বিভাগ। দুর্ঘটনাজনিত মুমূর্ষু রোগী এলে বাধ্য হয়ে পরিবারকে নিয়ে যেতে হচ্ছে অন‌্যত্র। মেডিক‌্যাল কলেজের তকমা পেলেও এখনও স্বাস্থ্য দপ্তরের খাতায় ‘টাইপ থ্রি’ বিভাগেই পড়ে এই স্বাস্থ‌্য প্রতিষ্ঠানটি। নিউরোলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট বা নেফ্রোলজিস্টের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নাগালে পাওয়া এখনও স্বপ্নই রয়ে গিয়েছে কোচবিহারের বাসিন্দাদের। স্বাভাবিকভাবেই তাই চিকিৎসা পরিষেবা পেতে স্বল্প সমস্যাতেই অধিকাংশ রোগীকে ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। মেডিক‌্যালের মহিলা বিভাগই হোক বা পুরুষ বিভাগ, গাদাগাদি করে একই বেডে একাধিক রোগীকে রাখাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

স্ত্রীর গলব্লাডারের স্টোন অপারেশনের জন্য নাটাবাড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ‘রেফার’ হয়ে এমজেএন-এ এসেছিলেন সুখবিলাস বর্মন। সেখানে চিকিৎসক বলেছিলেন যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপ্রচার করতে হবে। তবে এম জে এন-এ ভর্তি করে তড়িঘড়ি চিকিৎসা পাওয়া দূরের কথা, প্রায় দেড় মাস বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগে ছুটতে হয়েছে সুখবিলাসবাবুকে। শেষে মিলেছে অস্ত্রোপচারের সময়। অভিযোগ, রোগীদের একাংশকে তিন মাস ঘুরিয়েও সময় দেওয়া হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসকের অভাবেই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে বাইরে গেলে দিব্যি সেই মেডিক‌্যাল কলেজের  চিকিৎসকরাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্ত্রোপচার করতে সময় নিচ্ছেন না। তড়িঘড়ি ভর্তি করেই কাজ সেরে ফেলা হচ্ছে।

বহির্বিভাগের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন। টিকিটের জন্য লম্বা লাইন। সেটা পাওয়ার পর চিকিৎসকের জন‌্য লম্বা লাইনের পরও যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায় ওষুধ পাওয়ার কাউন্টারের অভাব। অন্তত ঘণ্টা দুয়েক দাঁড়ালে মেলে ওষুধ। চিকিৎসকের ঘাটতির প্রভাব বহির্বিভাগের চিকিৎসাতেও দেখা যাচ্ছে যেখানে অধিকাংশ বিভাগে সপ্তাহে ছয় দিন চিকিৎসক দেওয়াই সম্ভব হচ্ছে না। এতে বন্ধ হয়ে থাকছে বিভাগগুলি। যে সমস্ত সিনিয়র চিকিৎসক আসছেন, তারা সকালে দেরিতে এসে দুপুর হতে না হতেই জুনিয়র চিকিৎসকদের হাতে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলেই অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবে কার্যত অকূল পাথারে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যাপক ঘাটতির বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনে অবগত করানো হয়েছে। ৫০ বেডের নতুন হাসপাতাল যাতে দ্রুত চালু করা যায় তার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। তবে এম জে এন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এখনও টাইপ থ্রিতে রয়েছে। কাজেই এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এখনও পাওয়া যায়নি। সেটা যাতে দেওয়া হয়, তা নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।”
(চলবে)

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement