বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না রেজিনগরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। এবার তলব নিয়ে বলতে গিয়ে শক্তিপুর থানার ওসিকে বাবা-মা তুলে আক্রমণ করলেন তিনি। যা নিয়ে নতুন করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক।
গত কয়েকদিন ধরে চর্চায় হুমায়ুন কবীরের 'স্যাটাভাঙা মার' মন্তব্য। তার জেরে শক্তিপুর থানা ও রেজিনগর থানা থেকে তলবও করা হয়েছে বিধায়ককে। যদিও এসব তলবকে যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না তা আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। আজ, শুক্রবার শক্তিপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার কথা তাঁর। তবে আগেই হুমায়ুন জানিয়েছিলেন, যাবেন না তিনি। এদিন আরও একধাপ এগিয়ে শক্তিপুর থানার ওসিকে বেলাগাম আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, "ওসি যেখানে যাচ্ছে সেখানেই বলছে আমার বাপ এসেছে! আজ যাচ্ছি না।তবে আমি এসপিকে জানিয়ে শক্তিপুর থানায় হাজির হব, আমার নতুন বাবা সঙ্গে দেখা করতে যাব! প্রয়োজনে মাকে নিয়ে যাব। তার স্বামী কে চিনতে পারে কিনা দেখব!" এরপরই হুমায়ুন বলেন, "আগামিকাল রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে যাব। জমায়েত করে হাজিরা দিতে যাব। এক হাজার লোক নিয়ে যাব। আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলে আমার সঙ্গে এক হাজার লোক যাবে।"
গত শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার এক জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু, একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।” আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।” পরে শক্তিপুরের সভায় হুমায়ুনের হুঁশিয়ারি ছিল, ‘‘ভোটের আগেরদিন আমার ভাইপোকে গ্রেপ্তার করেছেন ওসি। তাঁকে আগে দেখব। তারপর ওর বাবাকে দেখব। ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে থানা থেকে একে বের করব। পারলে রুখে দেখান।” বিধানসভায় এনিয়ে হুমায়ুনকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই ওই অনুষ্ঠানের তিন আয়োজককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সকালে হুমায়ুনের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ। দুটি মামলায় হাজিরার জন্য নোটিস দেওয়া হয়।
