রাজনীতির ময়দানে উত্থান-পতন দস্তুর। ঠিক ১০ বছর আগের কথা, ক্ষমতার মধ্যগগনে দল ভাঙানোর চাকা ঘুরিয়েছিল যে তৃণমূল কংগ্রেস। ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর সেই চাকা এখন উলটো ঘুরতে শুরু করেছে। কালীঘাট থেকে নির্দেশিকাকে একের পর এক বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন দলের বিধায়করাই। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, ঘাসফুল শিবিরের অন্দরেই উঠতে পারে 'আমরাই আসল তৃণমূল' স্লোগান। বিধানসভায় মমতা-অভিষেকের ঠিক করে দেওয়া 'বিরোধী দলনেতা'র নাম উড়িয়ে দিতে পারেন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করাই।
তৃণমূলের এই দুঃসময়েও যাঁরা দলের মুখরক্ষা করে আসন বাঁচিয়ে রেখেছন, এখন তাঁদের মধ্যে অনেকেই 'বিক্ষুব্ধ'। বলা যেতে পারে জনতার গ্রহণযোগ্যতার বিচারে তাঁরাই এখন 'সংখ্যাগুরু'। শোনা যাচ্ছে, 'বিক্ষুব্ধ'দের অন্দরেই উঠছে 'ক্যামাকস্ট্রিট বিরোধী' স্লোগান। আলোচনা না করে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলেই তা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁদের দাবি, গত ১৫ বছরের 'কর্পোরেট' সংস্কৃতি এবার শেষের সময় এসেছে।
ভোটের ফলপ্রকাশের পর কালীঘাটে বৈঠক ডেকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নাম ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা হয়, ডেপুটি লিডার হবেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্র। দলের মুখ্য সচেতক হবেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্বের ঘোষিত একতরফা নির্দেশিকা কি ভেস্তে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র? রবিবার ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে 'দিদি'র ডাকা বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন মাত্র ২০ জন। বাকি ৬০ বিধায়কই সে কালীঘাটমুখো হননি। স্বাভাবিকভাবেই বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, দলে অভিষেকের উত্থানের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে চিড় যে ধরেছিল , তা তো 'ওপেন সিক্রেট'। দলের ভরাডুবির পর সেই ফাটল আরও চওড়া হয়েছে। তবে তৃণমূলের এই দুঃসময়েও যাঁরা দলের মুখরক্ষা করে আসন বাঁচিয়ে রেখেছন, এখন তাঁদের মধ্যে অনেকেই 'বিক্ষুব্ধ'। বলা যেতে পারে জনতার গ্রহণযোগ্যতার বিচারে তাঁরাই এখন 'সংখ্যাগুরু'। শোনা যাচ্ছে, 'বিক্ষুব্ধ'দের অন্দরেই উঠছে 'ক্যামাকস্ট্রিট বিরোধী' স্লোগান। আলোচনা না করে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলেই তা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁদের দাবি, গত ১৫ বছরের 'কর্পোরেট' সংস্কৃতি এবার শেষের সময় এসেছে।
গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই স্পিকারের কাছে বিকল্প কোনও 'বিরোধী দলনেতা'র নাম প্রস্তাব করতে পারেন। আর তা হলে সেটা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে হবে বিরাট ধাক্কা।
সূত্রের খবর, দলীয় বিদ্রোহের কোপ পড়তে পারে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা পদের উপরেও। জানা গিয়েছে, মমতা-অভিষেক বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করলেও, বিধানসভা অধিবেশন শুরু হতেই ঘাসফুলের ৬০ বিধায়কই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারেন। গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই স্পিকারের কাছে বিকল্প কোনও 'বিরোধী দলনেতা'র নাম প্রস্তাব করতে পারেন। আর তা হলে সেটা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে হবে বিরাট ধাক্কা। গত ১৫ বছরে দলনেত্রীর কথাই ছিল দলের কাছে শিরধার্য। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে ভরাডুবি ঘুরিয়ে দিল 'খেলা'। এখন দেখার আগামীতে কোনদিকে মোড় নেয় তৃণমূলের ভবিষ্যৎ।
