ভাইঝি ও তিন খুদে বন্ধু খেলা করছিল বাড়ির সামনে। সেই সময় ঘুমোচ্ছিল 'গুণধর' কাকা। খুদেদের চিৎকারে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। আর তার জেরেই নাকি হাঁসুয়া দিয়ে কোপাতে থাকে কাকা। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ভাইঝির। পরে হাসপাতালে আরও ৩ জন শিশুও প্রাণ হারায়। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সুতি থানার রঘুনাথপুরের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওই শিশুদের পরিবারের লোকজন।
অভিযুক্ত গোলাম সারওয়ার ওরফে বাদশা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার তোলা হবে আদালতে। ওই ধৃত যুবকের পরিবারের লোকজনের দাবি, গোলাম নাকি মানসিক ভারসাম্যহীন। সে নাকি মাঝেমধ্যে মানসিক সমস্যার ওষুধও খেত। যদিও মৃতের পরিবারের লোকজন সে দাবি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, গোলাম বরাবরই বদমেজাজি। সে নাকি মাসদুয়েক আগেও একজনকে খুন করেছে। ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মিটমাটও করে নেয়। সেই গোলামই এমন হাড়হিম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিজনেরা।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? মৃতের পরিবারের লোকজনের দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সকলে খেলা করছিল। আচমকা এক খুদে চিৎকার করতে থাকে। এরপরই দেখা যায় রক্তে ভেসে যাচ্ছে চতুর্দিক। বাড়ির সামনে মাটিতে শুয়ে ছটফট করছে শিশুরা। পরিবারের লোকজন হকচকিয়ে যায়। তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিছুক্ষণ চিকিৎসা হওয়ার পর ভাইঝির মৃত্যু হয়। আরও তিনজনের মৃত্যু হয় রাতেই। এই ঘটনার পর থেকেই থমথমে গোটা এলাকা। সন্তান হারানোর শোকে পাথর নিহত শিশুর পরিজনেরা।
