রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: বাবা-মায়ের সঙ্গে দিঘা বেড়াতে গিয়ে রহস্যমৃত্যু শিশুর৷ প্রায় চব্বিশঘণ্টা পর নিউ দিঘা থেকে নিখোঁজ শিশুর দেহ উদ্ধার হল শংকরপুরে৷ শিশুর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে মন্দারমণি উপকূল থানার পুলিশ৷
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আনন্দপুরের গুলসন কলোনির বাসিন্দা রৌশন খাতুন রবিবার তার বাবার সঙ্গে দিঘা বেড়াতে আসে৷ বিকেলের পর বাবা, মা ও পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে নিউ দিঘার মেরিনা ঘাটে যায় সে৷ নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরে শিশুর পরিজনেরা৷ ইতিমধ্যেই নিখোঁজ হয়ে যায় বছর নয়েকের শিশুটি৷ কোথায় গেল সে? শুরু হয় তল্লাশি৷ সমুদ্রের পাড় থেকে আশেপাশের দোকানপাট এমনকী থাকার জন্য যে হোটেল ভাড়া নিয়েছিল, সেখানেও শুরু হয় খোঁজ৷ তবে রাত কেটে গেলেও পাওয়া যায়নি রৌশনকে৷
[সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ, আত্মীয়দের হাতে খুন বাঁকুড়ার প্রৌঢ়]
গোটা ঘটনাটি দিঘা থানায় জানান শিশুর বাবা৷ নিখোঁজ ডায়েরি পেয়ে পুলিশও রৌশনের খোঁজ শুরু করে৷ রাতভর তল্লাশি করেও মেলেনি শিশুর সন্ধান৷ সোমবার বিকেলে আচমকাই শংকরপুরে সমুদ্রের কাছে একটি শিশুর দেহ উদ্ধার হয়৷ পুলিশ উদ্ধার করে শিশুটির দেহ৷ দেহ উদ্ধারের সময় শিশুর মুখে মিলেছে কালসিটে দাগ৷ ঠোঁটের পাশে ছিল রক্তের চিহ্নও৷ উর্ধ্বাঙ্গে কোনও পোশাকও ছিল না তার৷ কন্যা সন্তানকে শনাক্ত করে তার বাবা-মা৷ শিশুর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে মন্দারমণি উপকূল থানার পুলিশ৷
[প্ল্যাটফর্মে প্রস্রাব করায় মার রেল পুলিশের, শিরদাঁড়া ভাঙল যুবকের]
রৌশনের মৃত্যু কীভাবে হল তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য৷ প্রশ্ন উঠছে, সমুদ্রের পাড় থেকে কেউ কি শিশুকে অপহরণ করেছিল? অপহরণের পর কি ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে শিশুকে? তবে এসবের পাশাপাশি দুর্ঘটনার তত্ত্বও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ৷ খতিয়ে দেখা হচ্ছে সমুদ্রের পাড়ে বসে থাকার সময় জোয়ারের তোড়ে রৌশন ভেসে গিয়েছিল কি না? কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠছে, ভিড়ে ঠাসা দিঘায় কীভাবে চোখ এড়িয়ে গেল রৌশন? গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷ আপাতত শিশুর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পৌঁছনোর অপেক্ষায় পুলিশ৷
The post মা-বাবার সঙ্গে দিঘা বেড়াতে গিয়ে রহস্যমৃত্যু শিশুর, ছড়াল চাঞ্চল্য appeared first on Sangbad Pratidin.
