shono
Advertisement

Breaking News

Nabanna

কুড়মালি-রাজবংশীকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্রকে আবেদন রাজ্যের, খুশি জনজাতিরা

উপজাতিদের সারি ও সারনা ধর্মকে স্বীকৃতির জন্য পঞ্চমবারের জন্য চিঠি পাঠিয়ে কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দিয়েছে নবান্ন।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 04:10 PM Feb 20, 2026Updated: 04:10 PM Feb 20, 2026

জাতীয় স্তরে মর্যাদা বৃদ্ধিতে রাজ্যের পিছিয়ে পড়া দুই জনজাতির রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে কেন্দ্রের কাছে দরবার রাজ্যের। সেই সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে কেন্দ্রের কাছে উপজাতিদের সারি ও সারনা ধর্মকে স্বীকৃতির জন্য সুপারিশ করলেও তা কার্যকর করেনি। ফলে পঞ্চমবারের জন্য চিঠি পাঠিয়ে কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দিয়েছে নবান্ন। ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার এই জোড়া চিঠি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। বাংলা ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়েও কুড়মি জনজাতির মানুষজন রয়েছেন, যাঁরা কুড়মালি ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু বাংলা ছাড়া এর আগে কোনও রাজ্যই কুড়মি জনজাতিদের কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগে রাজ্যের এই চিঠিকে বড়সড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে জঙ্গলমহলের কুড়মি সংগঠন-সহ এই রাজ্যে বসবাস করা কুড়মি ও রাজবংশীরা।

Advertisement

তবে কয়েকটি কুড়মি সংগঠন সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, "একেবারে প্রথম থেকেই তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুড়মি জনজাতির উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করা অনেক বড় পদক্ষেপ। এই প্রস্তাবে কুড়মি ও রাজবংশী জনজাতির মানুষজন খুশি প্রকাশ করছেন।" ২০১৮ সালেই রাজ্য রাজবংশী ও কুড়মালিকে রাজ্যের সরকারি ভাষা হিসাবে ঘোষণা করে।

কিছুদিন আগেই অজিত মাহাতোর আদিবাসী কুড়মি সমাজ তাদের একটি কর্মসূচি থেকে জানায়, কেন্দ্র যদি কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে দেয় তাহলে তারা বিজেপির পাশে থাকবে। আসলে এই বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রের আওতাভুক্ত। তবে কুড়মি জনজাতিদের ওই দাবিপূরণে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো ভোটের আগে রীতিমতো 'মাস্টারস্ট্রোক' রাজ্যের।

কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভূক্ত করতে চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি রাজ্যের। নিজস্ব ছবি

আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজের মহা মোড়ল অনুপ মাহাতো বলেন, "রাজ্য সরকারকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। তবে আরও খুশি হতাম দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সিআরআই-এর উপর কমেন্ট-জাস্টিফিকেশনটা যদি পাঠানো যায়। আমরা কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা কী হবে, সেদিকেও নজর রাখছি।" একাধিক কুড়মি সংগঠন নিয়ে গঠিত হওয়া কুড়মি যৌথ মঞ্চের অন্যতম কর্মকর্তা তথা পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের তরফে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু মাহাতো বলেন, "রাজ্য সরকারের ওই পদক্ষেপে আমরা ভীষণই খুশি। এটা সত্যিই অনেক বড় কাজ। তবে কুড়মালি ভাষায় পঠনপাঠন চালু করে স্কুলগুলিতে পার্শ্বশিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।" ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজের এক্সিকিউটিভ কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা সুজিত মাহাতো বলেন, "রাজ্যের একেবারে উপযুক্ত পদক্ষেপ। তবে আদিবাসী তালিকাভুক্তির বিষয়ে কমেন্ট-জাস্টিফিকেশন টা পাঠাতে হবে।" আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা
অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, "ভোটের আগে রাজ্য সরকার এটা কি করতে চাইল, আমরা বুঝতে পারছি না।"

জঙ্গলমহলের ৪ জেলা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গ এমনকি উত্তরবঙ্গেও কুড়মি জনজাতির মানুষজন রয়েছেন। তবে উপজাতি রাজবংশীর মানুষজন সবচেয়ে বেশি রয়েছেন কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দার্জিলিংয়ে। জঙ্গলমহলের কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম সমাজ কর্মী পুরুলিয়ার সৌম্যদীপ মাহাতো বলেন, "ভাষা ও ধরমের দাবিদাওয়াকে নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু পশ্চিমবাংলায় প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কুড়মালিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং পঠনপাঠন চালু হয়নি তা অবিলম্বে শুরু করতে হবে। কুড়মিদের সিআরআই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে যে ৭ টি প্রশ্ন তুলেছে ওআরজিআই। তার উত্তর ২০১৭ সাল থেকে আটকে আছে। দ্রুত এই রিপোর্টটি পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেই আমরা আরও খুশি হব।" এনিয়ে দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বংশীবদন বর্মন বলেন, "এই দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করব, আমাদের এই দাবি পূরণে কেন্দ্রের আর কোনও অসুবিধা থাকবে না।"

সারি ও সারনা ধর্মের স্বীকৃতির জন্য ফের কেন্দ্রকে চিঠি নবান্নের। নিজস্ব ছবি

তবে রাজ্যের এই জোড়া চিঠির আগে রাজ্যসভায় এই দুই ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে একাধিকবার কেন্দ্রের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সামিরুল ইসলাম। কিন্তু সেই সময় কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছিল এমন কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই। এছাড়া সারি ধরম ও সারনা ধরমকে স্বীকৃতির দাবিতেও সওয়াল করেন তিনি। বেশ কিছু জনজাতি প্রকৃতিকে দেবতা মনে করে পুজো করে। তাই তা স্বীকৃতির জন্য বিধানসভাতেও পাস হয়েছে। যদিও তার আগে থেকেই এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করছে রাজ্য। কিন্তু কেন্দ্র তাতে সাড়া দেয়নি। সারি ও সারনা স্বীকৃতি পেলে জনজাতিদের ধর্মীয় অধিকার যেমন সংরক্ষিত হবে। তেমনই সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সহায়ক হয়ে উঠবে। একইভাবে রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে ইন্দো-আর্য ভাষা গোষ্ঠীর অন্তর্গত এই দুই ভাষার যেমন প্রসার হবে তেমনই এগিয়ে যাবে ঐতিহ্য সংরক্ষণেও।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement