শান্তিনিকেতনে হেরিটেজ ওয়াক টিকিটে কালোবাজারির গুঞ্জনের পরেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করলেও বিশ্বভারতী (Visva Bharati) কর্তৃপক্ষ। টিকিট বিতর্কে অবশেষে নড়েচড়ে বসল বিশ্ববিদ্যালয়। রবীন্দ্রভবনের কাউন্টার থেকেই টিকিট সংগ্রহের অনুরোধ। দূর দূরান্তের দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সতর্ক করল বিশ্বভারতী। ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পরেই কেন টিকিট নিয়ে এত বিতর্ক উঠেছে প্রশ্ন। তবে কালো বাজারের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি কর্তৃপক্ষের।
বৃহস্পতিবার, এই মর্মে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ লেখেন, ‘‘কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানকে বদনাম করার চেষ্টা করেছে। সেই গুঞ্জন ‘অমূলক’। পাশাপাশি স্বচ্ছতা বাড়াতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হবে। ‘হেরিটেজ ওয়াক’-এর টিকিট একমাত্র রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালা-র কাউন্টার থেকেই সরাসরি পাওয়া যায়। এর বাইরে অন্য কোনও মাধ্যমে টিকিট বিক্রির সুযোগ নেই। ফলে কালোবাজারির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’
অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেখানে আধার কার্ড দেখিয়ে প্রতি টিকিট ৩০০ টাকার অগ্রিম বুকিং দেয় সেখানে এক অধ্যাপক একই টিকিট ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছিলেন।
সম্প্রতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে হেরিটেজ ওয়ার্কের টিকিট কালোবাজারি অভিযোগ তোলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমটিএস স্থায়ী কর্মীরা। এই মর্মে তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকেও ইমেল মারফত অভিযোগ জানান। যেখানে অভিযোগ তোলা হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেখানে আধার কার্ড দেখিয়ে প্রতি টিকিট ৩০০ টাকার অগ্রিম বুকিং দেয় সেখানে এক অধ্যাপক একই টিকিট ২ হাজার টাকায় বিক্রি করছিলেন। যা টিকিট কাউন্টার থেকে আধার যাচাই ছাড়াই অগ্রিম বুকিং করে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ তোলা হয়। অভিযোগের হইচই পড়তেই নড়ে চড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, কোভিড পরিস্থিতির সময় থেকেই ঐতিহ্যমন্ডিত আশ্রম এলাকায় সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। গত বছর ২৩ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্যোগে ‘হেরিটেজ’ শান্তিনিকেতন (Shantiniketan) পরিদর্শনের নতুন ব্যবস্থা চালু হয়। চলতি বছরের ৩ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়‘হেরিটেজ ওয়াক’। বর্তমানে সপ্তাহের প্রতি শুক্র, শনি ও রবিবার নির্ধারিত সময়সূচি মেনে বিশ্বভারতী (Visva Bharati) নিযুক্ত গাইডের সহায়তায় পর্যটকেরা আশ্রমের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থান পরিদর্শনের সুযোগ পান। পর্যটকদের টিকিট মূল্য ধার্য করা হয়েছে ৩০০ টাকা এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৫০ টাকা। তবে এখানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া প্রাক্তনী এবং প্রবীণ আশ্রমিকদের মধ্যে।
বিশ্বভারতীর একাংশ অধ্যাপকদের দাবি, টিকিটের কালোবাজারি অভিযোগ ওঠার পর সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। তাঁর পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিচলিত এবং ক্ষুব্ধ হয়ে স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিতেই আক্রমনাত্মক ও হিংসামূলক প্রেস বিজ্ঞপ্তি। বাক্য চয়ন এবং শব্দ ব্যবহার রবীন্দ্র সংস্কৃতি পরিপন্থী। যদিও বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “হেরিটেজ ওয়াক অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথমে সপ্তাহে একদিন ছিল, পরে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে তিনদিন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যে কিছু ঈর্ষাকাতর ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার জন্যই এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।”
