বয়সের ভারে এমনিই সে ন্যুজ হয়ে পড়েছে। তার উপর নখের জন্য দিনের পর দিন তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিল দার্জিলিং চিড়িয়াখানার এই রয়্যাল বেঙ্গল। অবশেষে তার নখ কাটা হল। ঘুমপাড়ানি গুলি, অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই তার নখ কাটা হল। সম্রাটের নখ কাটার জন্য চিড়িয়াখানায় তৈরি করা হয় স্কুইজ খাঁচা। সেই খাঁচায় ভরে তার নখ কাটেন পশু চিকিৎসকরা। বাঘের নখ কাটতে কলকাতা থেকে ছুটে গেলেন প্রাণী চিকিৎসক প্রলয় মণ্ডল। ছিলেন দার্জিলিং চিড়িয়াখানার চিকিৎসকও। এক দশক পর নখ কেটে যেন স্বস্তি পেল সম্রাট।
এনিয়ে দার্জিলিং চিড়িয়াখানার অধিকর্তা অরুণকুমার মুখোপাধ্যায় জানান, ''দশ বছর ধরে তার নখ কাটা হয়নি। নখ বেড়ে গিয়ে থাবার ভিতরে ঢুকে কাঁটার মতো ফুটছিল। চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায় বৃদ্ধ বাঘ সম্রাটের। তবে সুষ্ঠুভাবে নখ কাটা হয়েছে। এখন সে চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছে।" দার্জিলিং পদ্মজা নাইডু হিমালয়ন জুলজিক্যাল পার্কের হলুদ কালো ডোরাকাটা রয়্যাল বেঙ্গল বাঘ সম্রাটের বয়স এখন প্রায় ২০। বেঙ্গল সাফারি থেকে তাকে দার্জিলিং নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন বয়স ছিল তিন। সম্রাট দার্জিলিংয়ের চিড়িয়াখানার দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণ। তার গর্জনে কেঁপে উঠত চিড়িয়াখানার অন্যান্য পশুপাখিরা। সম্রাট এখন বৃদ্ধ। এক দশক ধরে নাকি তার নখ কাটা হয়নি।
দীর্ঘ বছর ধরে নখ না কাটায় সম্রাটের সামনে ডান পায়ের শেষের আঙুলে একটি নখ তার থাবার ভিতরে ঢুকে ক্ষত তৈরি করে। হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়। চার বছর আগে দর্শকদের সামনে থেকে তাকে সরিয়ে নিয়ে চিড়িয়াখানার পুরনো কনজারভেশন ব্রিডিং সেন্টারে। নখের যন্ত্রণা ক্রমশ বাড়তে থাকায় সে কুঁকড়ে থাকত। কিন্তু নখ কাটার উদ্যোগ কেউ নিচ্ছিল না। চিড়িয়াখানার অধিকর্তা অরুণ মুখোপাধ্যায় নতুন বছরে নখ কাটার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কীভাবে কাটা হবে বাঘের এই নখ? তা নিয়ে দোলাচলে ছিল কর্তৃপক্ষ। বয়সের জেরে ঘুম পাড়ানির গুলি দেওয়া যাবে না। অ্যানেস্থেশিয়াও প্রয়োগ করা যাবে না। তাহলে বাঘের গায়ে হাত দেবে কী করে? অসুস্থ হলেও বাঘ তো বাঘই থাকে। তাই চিড়িয়াখানায় বিশেষ খাঁচা তৈরি করা হয়।
দীর্ঘ বছর ধরে নখ না কাটায় সম্রাটের সামনে ডান পায়ের শেষের আঙুলে একটি নখ তার থাবার ভিতরে ঢুকে ক্ষত তৈরি করে। হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়।নখের যন্ত্রণা ক্রমশ বাড়তে থাকায় সে কুঁকড়ে থাকত।
অধিকর্তা জানান, "এই বয়সে সম্রাটকে ট্রাঙ্কুলাইজ করে নখ কাটতে হলে হিতে বিপরীত হতে পারত। অ্যানেস্থেশিয়াও প্রয়োগ করা ঝুঁকি ছিল। স্কুইজ খাঁচার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যাতে নড়াচড়া করতে না পারে। তারপর প্রাণী চিকিৎসকরা তার নখ কাটেন। নখ কাটার পর সেটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।" তবে সম্রাটের পিছনের ডান পায়েও একটি নখ থাবার ভিতরে ঢুকে রয়েছে। চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, পিছনের থাবার নখটি ততটা বিপজ্জনক নয়। নখ কাটার এই ধকলটা সামলে উঠলে পরে ওই নখটিও কাটা হবে। সম্রাটের করুণ অবস্থার পর ওই চিড়িয়াখানার বাঘেদের নখের যত্ন নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মাঝেমাঝে তাদের নখ যাতে ট্রিম করা হয় কিপার ও পশু চিকিৎসকদের সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
