গণবিক্ষোভে গত ৯ সেপ্টেম্বের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির সরকারের পতন ঘটেছিল। জেন জিদের বিক্ষোভ ধীরে ধীরে গণআন্দোলনের রূপ নেয়। তার জেরেই ক্ষমতা ছাড়তে হয় কেপি শর্মা ওলিকে। এই প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার নেপালে সাধারণ নির্বাচন (Nepal Election 2026) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭ থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব। কড়া নিরাপত্তার মোড়কে চলছে ভোটগ্রহণ। এদিকে নেপালের ভোটের কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্ত। ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত।
জানা গিয়েছে, সীমান্ত বন্ধের জেরে দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত ও ব্যবসা পুরো বন্ধ থাকবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা খোলা থাকবে। প্রসঙ্গত নেপাল থেকে প্রতিদিন রোগী ভারতের শিলিগুড়িতে চিকিৎসা করাতে আসেন। আগামী ৬ মার্চ সকাল থেকে সীমান্ত সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত এলাকার বাণিজ্য মূলত নেপালের বাসিন্দাদের উপর নির্ভরশীল। স্বভাবতই সীমান্ত বন্ধ থাকায় প্রভাব পড়বে ভারতের সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়। পানিট্যাঙ্কি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী জানান, নেপালের সাধারণ নির্বাচন এবং সেখানে স্থায়ী সরকার গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন সীমান্তের ব্যবসায়ী মহল। কারণ নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে সীমান্তের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এসএসবি সূত্রে খবর, ভারত থেকে শুধুমাত্র নেপালের নাগরিকরা তাঁদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে স্বদেশে ফিরতে পারছেন। একইভাবে নেপালে আটকে থাকা ভারতীয় পর্যটক বা শ্রমিকরা ভারতে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন। তবে শুক্রবার পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সমস্ত ধরণের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নেপালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ি মহকুমার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কড়া নজরদারি চলবে বলে জানা গিয়েছে।
