shono
Advertisement
Subhranshu Roy

নেপাল বিপর্যয়ের পর চিন সীমান্তেই রয়েছেন স্ত্রী? খোঁজ পেতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ শুভ্রাংশু

CM Suvendu Adhikari: এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৩২ থেকে ৩৭ টি পরিবারের কোনও না কোনও সদস্য নিখোঁজ।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 02:07 PM Sep 15, 2026Updated: 03:54 PM Sep 15, 2026

২০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। নেপালে হড়পা বান ও হিমবাহ হ্রদ গলে জোড়া বিপর্যয়ের পর থেকে খোঁজই মেলেনি বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের (Subhranshu Roy) স্ত্রী শর্মিষ্ঠার। এনিয়ে বহু জল্পনাকল্পনা চলেছে। শর্মিষ্ঠাবিহীন শুভ্রাংশুর হালিশহরের বাড়িতে কার্যত শূন্যতা! একাদশ শ্রেণির মেয়েই ময়ের মতো করে আগলে রাখছে ছোট ভাইকে। যদিও হাল ছাড়তে নারাজ শুভ্রাংশু। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, স্ত্রী বিপর্যয়ের আগেই নিরাপদে চিন সীমান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তাই তিনি সুরক্ষিত রয়েছে। এবার স্ত্রীর সঠিক খবর পেতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) দ্বারস্থ হতে চলেছেন শুভ্রাংশু রায় ও রাজ্যের নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা। আগামিকাল, বুধবার নবান্নে তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভ্রাংশুর দাবি, তিনিই কোনও আশার খবর দিতে পারবেন।

Advertisement

মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে শুভ্রাংশু জানান, ‘‘আমি নিজের আশার কথা বলেছি মাত্র। শর্মিষ্ঠারা যে চিন সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে, তেমন একটি সূত্র চিনের এক সংস্থার কাছে পাওয়া গিয়েছে। আমার ফেসবুক পোস্টে তা শেয়ার করেছি। তাই আমার ধারণা, ওই চিন সীমান্তেই কিছু লুকিয়ে রয়েছে।''

কৈলাস, মানস সরোবর দর্শনে একটি টুর সংস্থার সঙ্গে বেরিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা ভৌমিক। বাড়িতে দুই ছেলেমেয়েকে রেখে একাই গিয়েছিলেন। গত ২৫ আগস্ট রাতে তাঁর সঙ্গে শুভ্রাংশু ও তাঁর পরিবারের ভিডিও কলে কথাবার্তা হয়। শর্মিষ্ঠা জানান, ভিসা হাতে এসেছে, পরদিনই তাঁরা চিন সীমান্তের দিকে অর্থাৎ মানস সরোবরের পথে রওনা দেবেন। ঠিক তার পরেরদিন, ২৬ আগস্ট বিধ্বংসী বিপর্যয়ের সাক্ষী হয় নেপাল। প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছে তাতে। নিখোঁজ এখনও বহু। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের এখনও ৩২ থেকে ৩৭টি পরিবারের সদস্য নিখোঁজ। এখনও তাঁদের খোঁজ মেলেনি। আদৌ তাঁরা বেঁচে আছেন কিনা, তাও ঠিক নেই। যদিও শুভ্রাংশু রায় বারবারই নিজের ফেসবুক পোস্টে আশাপ্রকাশ করছেন, তাঁর স্ত্রী-সহ বাকিরা সুরক্ষিত রয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বিপর্যয়ের আগেই শর্মিষ্ঠা ও তাঁর সঙ্গে থাকা পর্যটকরা চিন সীমান্তের সুরক্ষিত এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠকে শুভ্রাংশু জানান, ‘‘আমি নিজের আশার কথা বলেছি মাত্র। শর্মিষ্ঠারা যে চিন সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে, তেমন একটি সূত্র চিনের এক সংস্থার কাছে পাওয়া গিয়েছে। আমার ফেসবুক পোস্টে তা শেয়ার করেছি। তাই আমার ধারণা, ওই চিন সীমান্তেই কিছু লুকিয়ে রয়েছে। এটা তো দুই রাষ্ট্রের সরকারি স্তরে সমন্বয় হওয়ার কথা, আমরা তো কিছু বলতে পারব না। সরকারের কাছে আমার আবেদন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানান আমাদের প্রতিটি পরিবারকে। আমি শুধু নিজের স্ত্রীর জন্য বলছি না। যে ৩২ বা ৩৭ টি পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ, তাঁদের সবার উদ্বেগের অবসান ঘটাতে বলছি কথাটা। যে পোর্টালটি চালু হয়েছে, তাতে ফিরে আসা এবং নিখোঁজ পর্যটকদের ছবি-সহ নাম প্রকাশিত হোক। তাহলে সকলের সব বুঝতে সুবিধা হবে।''

এরপরই শুভ্রাংশু বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। বুধবার আমাদের ডেকে পাঠিয়েছেন নবান্নে। এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলবেন। নিখোঁজ পরিবারগুলির ২ জন করে সদস্য যাবেন। আমি ও আমার মেয়ে যাব।'' স্ত্রীকে ফিরে পেতে শুভ্রাংশুর মরিয়া চেষ্টা আর অনন্ত আশার সুফল কবে মিলবে? সেই উত্তর এখনও অজানা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement