shono
Advertisement
Nepal Flash Flood

এক কাপ চায়েই প্রাণরক্ষা! ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে বিপর্যস্ত নেপাল থেকে ফিরলেন বর্ধমানের পর্যটক

'গাড়ি, মানুষ-সহ ব্রিজটা ভেঙে গেল চোখের সামনে', স্বচক্ষে দেখা প্রকৃতির রোষ ভুলতে পারছেন না তিনি।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 07:12 PM Aug 30, 2026Updated: 07:13 PM Aug 30, 2026

ভাগ্যিস পরিকল্পনার সঙ্গে সময় মেলেনি। আর সেই গরমিলই বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্ধমান থেকে কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের জীবনে। চা-পানের ১৫ মিনিটের বিরতি নেপালের মহাপ্রলয় থেকে তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছে। চোখের সামনে প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখে বাড়ি ফিরেছেন বর্ধমানের কল্যাণকুমার তা। চর্মচক্ষে ধরা দেওয়া ভয়াবহ সেই দৃশ্যগুলো কিছুতেই মুছতে পারছেন না। তা যতটা জীবন্ত তাঁর কাছে, ততটাই সতর্ক তাঁর মন। নিজে নিরাপদে ফিরে বারবার বলছেন, ‘‘প্রকৃতির এই রূপ না দেখতে পেলেই ভালো হতো। কিন্তু প্রকৃতি শোধ তো তুলবেই। তার আগে তো আমরাই প্রকৃতির উপর অত্যাচার করেছি। এখনও সতর্ক না হলে আমাদেরও এখানেও নেপালের মতো হবে।''

Advertisement

বর্ধমানের বিধানপল্লির এই বাড়িটি কল্যাণকুমার তা-র, নিজস্ব ছবি

২৬ তারিখ ভোরে গাড়ি নিয়ে ১২২ কিলোমিটার দূরে চিন সীমান্তের পথে পাড়ি দেন কল্যাণবাবু, বিপ্লববাবুরা। কিন্তু দীর্ঘ গাড়িযাত্রায় ক্লান্ত হয়ে রসুই অর্থাৎ সেদিনের ঘটনাস্থলের একটু আগে, বিদুরের কাছে খানিক বিরতি নেন তাঁরা। এক কাপ চা খেয়ে ফের গাড়িতে উঠে এগোতে যাচ্ছিলেন সবে। পুলিশ রুখে দেয়। বস্তুত সেই এক কাপ চা-ই প্রাণ বাঁচিয়ে দেয় পর্যটক দলটির।

বর্ধমানের বিধানপল্লির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কল্যাণকুমার তা। ২১ আগস্ট একটি পর্যটন সংস্থার সঙ্গে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন তিনি, সঙ্গী ছিলেন জেলারই বাসিন্দা বিপ্লব হাজরা। ২২ তারিখ কাঠমাণ্ডু পৌঁছন। সেখান থেকে চিন সীমান্ত পেরিয়ে তীর্থে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২৩, ২৪ আগস্ট অপেক্ষার পরও ভিসা মেলেনি। অবশেষে ২৫ তারিখ রাতে ভিসা হাতে পান কল্যাণবাবুরা। রাত দেড়টা নাগাদই মানসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির জন্য তাঁরা রাতে বেরনো স্থগিত করেন। ঠিক হয়, ভোরবেলাই বেরিয়ে পড়বেন। সেইমতো ২৬ তারিখ ভোরে গাড়ি নিয়ে ১২২ কিলোমিটার দূরে চিন সীমান্তের পথে পাড়ি দেন কল্যাণবাবু, বিপ্লববাবুরা। কিন্তু দীর্ঘ গাড়িযাত্রায় ক্লান্ত হয়ে রসুই অর্থাৎ সেদিনের ঘটনাস্থলের একটু আগে, বিদুরের কাছে খানিক বিরতি নেন তাঁরা। এক কাপ চা খেয়ে ফের গাড়িতে উঠে এগোতে যাচ্ছিলেন সবে। পুলিশ রুখে দেয়। বস্তুত সেই এক কাপ চা-ই প্রাণ বাঁচিয়ে দেয় পর্যটক দলটির।

বিপর্যস্ত নেপাল থেকে নিজের বাড়িতে ফিরেও মোবাইলে ধ্বংসের ভিডিওয় নজর কল্যাণবাবুর, নিজস্ব ছবি

রবিবার সকালে বাড়ি ফিরে এই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন কল্যাণকুমার তা। তাঁর কথায়, ‘‘পাহাড়ের বান কেমন হয়, জানতাম না। আমরা তো সমতলে থাকি। প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে যা দেখেছি, সব টিভিতে। তার সঙ্গে ওই হড়পা বানের কোনও মিল নেই। প্রকৃতির তাণ্ডব কেমন হয়, চোখের সামনে দেখলাম। প্রচণ্ড আওয়াজ আর উপর থেকে সাদা মেঘের মতো জলরাশি ধেয়ে আসছে। সঙ্গে পাথর, কাদা, বালি। একটা ব্রিজ ছিল। সেটা মানুষ, গাড়ি, কুকুর, গরু-সহ ব্রিজটা ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তারপর চোখের সামনে শুধু কালো! কিছু দেখা যাচ্ছিল না। আমার চোখ যা দেখেছে, তা কোনও ক্যামেরায় থাকবে না।'' প্রকৃতির জোড়া ফলায় এখনও পর্যন্ত নেপালের মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৭০০ পেরিয়েছে। নিখোঁজ এখনও বহু। তবে অনেক ভারতীয় পর্যটককেই উদ্ধার করা গিয়েছে। অনেকে ফিরেছেন দেশে। 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement