হাওড়া স্টেশনে আকাশি রঙের ট্রলি দেখে চিৎকার শুরু করে স্নিফার ডগ 'মার্কো'। আর তা দেখেই সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। ট্রলি খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ আরপিএফ আধিকারিকদের। ট্রলি থেকে উদ্ধার হয় ২২.৬৪ কেজি গাঁজা। এই ঘটনায় হাওড়া স্টেশনের ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে এক যাত্রীকে আটক করল আরপিএফ। স্নিফার ডগ 'মার্কো'র সাহায্য অভিযুক্তকে পাকড়া করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি গাঁজার কোনও বৈধ লাইসেন্স, পারমিট বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সেই কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার হাওড়া স্টেশনে অভিযান চালায় আরপিএফ ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের (সিআইবি) কর্মকর্তারা। তাঁদের সঙ্গে ছিল আরপিএফ-এর স্নিফার ডগ 'মার্কো'। সে ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে এগিয়ে যাওয়া এক যাত্রীর সঙ্গে থাকা আকাশি রঙের ট্রলি ব্যাগের দিকে ইঙ্গিত করে। শুরু করে চিৎকার। এরপর তড়িঘড়ি ওই যাত্রীকে আটক করা হয়। তাঁর কাছে থাকা ট্রলি ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১১টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যেই মোট ২২.৬৪ কেজি ওজনের নিষিদ্ধ মাদক ছিল। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় ওই যাত্রীকে।
ধৃত যাত্রীর নাম রবিয়াল (২২)। তিনি কোচবিহারের স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি উত্তর-পশ্চিম দিল্লিতে থাকেন। এই বিপুল পরিমাণ গাঁজা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গাঁজার পাশাপাশি রবিয়ালের কাছ থেকে তাঁর মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন (এনডিপিএস অ্যাক্ট, ১৯৮৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজুর জন্য ধৃতকে হাওড়া জিআরপি-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই অভিযান প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিপিআরও) শিবরাম মাঝি জানান, রেলওয়ে চত্বরে যেকোনও ধরনের অবৈধ কাজকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে পূর্ব রেল সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
