নেতাজির পদধূলি ধন্য কালনার জ্ঞানানন্দ মঠ। সেখানে আজও ‘দেবজ্ঞানে’ পূজিত হন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। স্বাধীনতা দিবসে সরকারি আমলা, মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে তাঁর স্মরণে একাধিক অনুষ্ঠানও হয়। এবারও সেই প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু তার আগে নেতাজির উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে জ্ঞানানন্দ মঠে। নেতাজি ইস্যুতে ক্ষমা চেয়েও রেহাই পাচ্ছেন না বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় তথা অনন্ত মহারাজ। শুক্রবার তাঁর নাম না করেই তোপ দাগলেন মঠের দায়িত্বে থাকা নিত্যপ্রেমানন্দ মহারাজ।
মাস্টারদা সূর্য সেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন মঠের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী নিত্য গৌরবানন্দ অবধূত মহারাজ। নেতাজির সঙ্গেও তাঁর ভীষণ ভালো সম্পর্ক ছিল। গুপ্ত বৈঠক করার জন্য নেতাজি এই মঠে এসেছিলেন। তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার, চৌকি আজও সযত্নে রক্ষিত রয়েছে। প্রতিদিন তাঁর পুজো হয়। ২৩ জানুয়ারি নেতাজি স্মরণে বড় অনুষ্ঠান হয়। সম্প্রতি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কের আবহ। অনন্ত মহারাজের নানা বেলাগাম মন্তব্যের জেরে ধিকিধিকি ক্ষোভের আগুন জ্বলছে অনুরাগী মহলে।
নেতাজির ব্যবহৃত চৌকি, চেয়ার এখনও একইরকমভাবে রয়েছে এই বাড়িতে, নিজস্ব ছবি
এনিয়ে জ্ঞানানন্দ মঠের নিত্যপ্রেমানন্দ মহারাজ বলেন, “নেতাজিকে আমরা দেবতা জ্ঞানে পুজো করি। শ্রদ্ধা জানাই। তাঁকে অসম্মান করা মানে দেশকে অসম্মান করা। এই ঘটনা শুধু দুঃসাহসই নয়, অত্যন্ত নিন্দনীয়। নেতাজির অসম্মানে রাজ্য সরকারের কঠোরতম পদক্ষেপ খুবই প্রশংসনীয়। আরও যারা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন তাদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া দরকার।” তিনি আরও জানান, “দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এই মঠে ধর্মচর্চার পাশাপাশি দেশকে স্বাধীন করার জন্য গোপন বৈঠক চলত। নেতাজি ১৯৩০ সালে দু'দিন, দু'রাত রাত এই মঠে কাটিয়েছিলেন।”
জানা গিয়েছে, মঠে থাকা নেতাজির ব্যবহৃত জিনিসপত্র সযত্নে রাখার জন্য মিউজিয়াম তৈরির দাবি ছিল নেতৃত্বের। সেই দাবিপূরণে আশ্বস্ত করেছেন কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপরেখা তৈরিতে এই মঠের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আজও বছরভর এই মঠে পর্যটকদের ভিড় হয়। তাই এখানে একটি অতিথি নিবাস তৈরির দাবিও তোলা হয়। এছাড়াও কমিউনিটি টয়লেট, পানীয় জল প্রকল্পের মত বেশ কিছু বিষয় বিধায়কের নজরে আনা হয়েছে বলে মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে।
