তরুণকান্তি দাস: বেগুন, চিচিঙ্গা, করলা। কবে পাতে পড়বে তার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে আছেন লন্ডনবাসী! অথচ স্রেফ পরিকাঠামোর অভাবে তা রপ্তানি করতে পারছে না বাংলা। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের দ্বারস্থও হয়েছেন রপ্তানিকাররা। তবে শিম, ঝিঙে, পেঁপে, কচুরমুখী অবশ্য বিমানে চড়ে দিব্যি পাড়ি দিচ্ছে ইউরোপে।
[সেলেব বলেই কি গ্রেপ্তারির হাত থেকে পার পেয়ে যেতে পারেন বিক্রম?]
সমস্যাটা কোথায়? ইউরোপের আইন অনুযায়ী ‘স্টিম ট্রিটমেণ্ট’ বা বাষ্পীয় পরিশোধন করে এইসব সবজি পাঠাতে হবে। কিন্তু এই পরিকাঠামোটাই তো বাংলায় নেই৷ প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে পেঁপে, ঝিঙে বা শিম কীভাবে যাচ্ছে? রপ্তানিকারকদের সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, রপ্তানি করার আগে যে কোনও ফসল নিয়ে যেতে হয় প্যাক হাউসে৷ সেখানে তার পরীক্ষা করা হয়৷ পরীক্ষার দায়িত্ব এনপিপিও-র৷ কেন্দ্রীয় এই সংস্থা ছাড়পত্র দিলে তবেই শুল্ক দফতর তা বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিয়ে থাকে৷ কিন্তু রাজ্যে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে মাত্র দু’টি প্যাক হাউস রয়েছে৷ তা-ও আবার বেসরকারি৷ বারাসত ও দত্তপুকুরে। দত্তপুকুরেরটি তিনজন রপ্তানিকারক মিলে বানিয়েছেন৷ সেখানে এনপিপিও-র আধিকারিকরা গিয়ে পরীক্ষা করেন রপ্তানিযোগ্য ফসল৷ দেখা হয় কোনও ব্যাকটেরিয়া আছে কি না ফসলে৷ পেঁপে, কচু বা শিম নিয়ে তেমন কড়াকড়ি, ঝামেলা নেই৷
[বাহুবলীর ভল্লাল দেব সম্পর্কে এই তথ্যটি জানেন?]
গোল বেধেছে করলা, চিচিঙ্গা, বেগুন নিয়ে৷ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন জানিয়েছে এগুলি পাঠাতে গেলে বিশেষ শোধন চাই৷ প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতার৷ সেখানকার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর জোর দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানকার সরকার৷ সেই সিদ্ধান্ত মানতে গেলে প্রয়োজন ‘স্টিম ট্রিটমেণ্ট’। যা এই প্যাক হাউসে সম্ভব নয়। সেই পরিকাঠামোই নেই এখানে৷ তাই ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই রপ্তানির৷ অথচ চাহিদা বিপুল৷ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও স্রেফ হাত কামড়াতে হচ্ছে রপ্তানিকারকদের৷ কৃষিজ ফসল রপ্তানিকারকদের পক্ষে প্রীতম রায় বলেন, “এমনিতেই বেসরকারি প্যাক হাউসে পরীক্ষা করাতে যথেষ্ট খরচ হয় আমাদের৷ তার উপর ‘স্টিম ট্রিটমেণ্ট’ করার কোনও পরিকাঠামো নেই আমাদের৷ তাই লন্ডন থেকে বারবার চাইলেও আমরা করলা, বেগুনের মতো ফসল পাঠাতে পারছি না৷ রাজ্য সরকার উদ্যোগী হলে ভাল হয়৷”
[এইসব জায়গায় প্রিয়জনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক? সর্বনাশ! আজই সাবধান হোন]
বাংলাদেশ তো বটেই লন্ডনে প্রচুর ভারতীয় থাকেন। অনেকের তো আবার দু’বেলা পাত পেড়ে বাঙালিখানা না হলে চলেই না। সূত্র বলছে, রোজ কম করে ১০ টন শিম, পেঁপে, লাউ যাচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে৷ তা-ও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না৷ পরিকাঠামোর অভাবে মার খাচ্ছে বাড়তি বাণিজ্য৷ কেন্দ্রীয় সংস্থা এনপিপিও-র কলকাতার কর্তা এম শশীয়ার বলেন, “ব্যাকটেরিয়া আছে কি না, বাড়তি কীটনাশক ব্যবহার হয়েছে কি না, সেটা দেখা আমাদের কাজ৷ পরিকাঠামোর সমস্যা আছে সেটা আমরাও জানি৷ কিন্তু কিছু করার নেই৷”
[শরীর নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’, প্রাণ খোয়াতে হল ২৩ বছরের এই মডেলকে]
The post পাতে পড়ছে না করলার পদ-বেগুন ভাজা, মন খারাপ লন্ডনবাসীর! appeared first on Sangbad Pratidin.
