আকাশনীল ভট্টাচার্য ও সন্দীপ মজুমদার: মোটের উপর শান্তিতেই শেষ হল দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচন। দুটি কেন্দ্রে শাসক দলরে বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তৃণমূল অভিযোগ উড়িয়ে বলেছে দাঁড়াতে না পেরে স্রেফ অভিযোগ করেই বাজার গরম করতে চাইছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস।
উলুবেড়িয়া লোকসভার উপনির্বাচন আক্ষরিক অর্থেই উৎসবে পরিণত হল। সোমবার সকাল থেকেই অধিকাংশ ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বাগনান, শ্যামপুর, উলুবেড়িয়া, আমতা, উদয়নারায়ণপুর সর্বত্র মানুষ দলে দলে ছুটির আমেজে পথে নামেন। সপ্তাহের প্রথম দিনে বাড়তি একটা ছুটি পেয়ে অনেকেই সকাল সকাল তাঁদের ভোট দিয়ে দামোদর ও রূপনারায়ণ নদের তীরে পিকনিকের আসর বসিয়ে দেন। এরই মধ্যে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনায় কিছু এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন উলুবেড়িয়ার গঙ্গারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দেওয়া নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। বিজেপি প্রার্থী অনুপম মল্লিকের অভিযোগ, বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল কর্মীরা দলীয় কর্মী উল্লাস রায়কে রাস্তায় ফেলে মারধর করে। এই অভিযোগে বিজেপির পক্ষ থেকে গঙ্গারামপুর মোড়ে অবরোধ করা হয়। উলুবেড়িয়ার এসডিপিওর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে তৃণমূল কাউন্সিলর ইনামূল রহমানের অভিযোগ স্থানীয় শিক্ষিকা মায়া হালদার ওই বুথে ভোট দিতে গেলে বিজেপি নেতা মোহন রানা ও তাঁর দলবল তাঁকে মারধর করেন। পুলিশ মোহন রানাকে আটক করেছে। উলুবেড়িয়ার জোয়ারগোড়িতে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বাগনান-১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সমীর সামন্তর অভিযোগ, খালোড় পশ্চিমপাড়া স্কুলের ৯৪ নম্বর বুথে মক পোলের সময় দেখা যায় ইভিএম-এর যে কোনও বোতাম টিপলেই ভোট পড়ছে বিজেপিতে। কংগ্রেস প্রার্থী মদাসসর হোসেন ওয়ারসির অভিযোগ আমতা, হীরাপুর, কাঁটাখালি এলাকায় তাঁদের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সিপিএম ও বিজেপির পক্ষ থেকেও একই অভিযোগের পাশাপাশি ৫০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকার কথা বলা হয়েছে। তৃণমূলের গ্রামীণ জেলা সভাপতি পুলক রায় বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন ভোটারদের মধ্যে এরকম স্বতঃস্ফূর্তভাব উলুবেড়িয়ার মানুষ আগে কখনও দেখেনি। যাঁরা অভিযোগ তুলছেন নির্বাচনী ময়দানে তাঁদের টিকি পাওয়া যায়নি। এদিন আমতার ফতেপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট চলাকালীন প্রিসাইডিং অফিসার অশোক কুমার দেঁড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
[ঘুমের ‘কোটা’ পূর্ণ হয়নি চালকের, চার ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ল ট্রেন]
নোয়াপাড়ার উপনির্বাচন নিয়েও ছিল কৌতুহল। এখান কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকটি বুথ দখলের অভিযোগ উঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিশানায় ছিল শাসক দল। তৃণমূলের অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির তরফে বোমা এবং পায়ে গুলি লাগার দৃশ্য ভোটের দিন ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট ঘিরে নোয়াপাড়ার গারুলিয়ার ৫৭ নম্বর বুথের ঘটনা বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল। যার জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ওই বুথ চত্বরে। এঘটনা চাউর হতে ৫৭ নম্বর বুথে ভিড় জমান সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি আলোক দাশগুপ্ত সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। যদিও ওই বুথের বিজেপির এজেন্ট দিব্যেন্দু বিকাশ চট্টপাধ্যায়ের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। সবটাই গুজব। এব্যাপারে পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার সিং বলেন, ভিডিওটি রবিবার রাতের বোলপুরের বড়শিমুলিয়ার ঘটনা। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ ব্যান্দোপাধ্যায় বলেন, বোমা-গুলির দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালের বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই।
ছবি: প্রতিবেদক
The post বিক্ষিপ্ত অশান্তি, উপনির্বাচন শেষ হল কার্যত শান্তিতে appeared first on Sangbad Pratidin.
