Advertisement
১০ সেকেন্ডে গোল থেকে এক ম্যাচে ২০ কার্ড, বিশ্বকাপে কোনও দিন ভাঙবে না যে রেকর্ডগুলি!
ফুটবল বিশ্বকাপের কোনও না কোনও আসরে এমন একাধিক রেকর্ডের জন্ম হয়েছে, যা ভাঙা কার্যত অসম্ভব।
রেকর্ড গড়া হয়, ভাঙার জন্যই। চিরপ্রচলিত এই প্রবাদ। কিন্তু এমন কিছু রেকর্ডও আছে, যা অবিনশ্বর। যার কোনও ক্ষয় নেই। ফুটবল বিশ্বকাপের কোনও না কোনও আসরে এমন একাধিক রেকর্ডের জন্ম হয়েছে, যা ভাঙা কার্যত অসম্ভব। ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু না থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এই সমস্ত রেকর্ড ভাঙা কষ্টসাধ্য।
এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল: ১৯৫৮ বিশ্বকাপের কথা উঠলেই অনেকেই পেলের উত্থানের কথা বলবেন। অনেকেই হয়তো বিস্মৃত, সেবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার নাম জাস্ট ফন্টেইন। ১৩ গোল করেছিলেন। তাও আবার ছ’ম্যাচে। এর মধ্যে প্যারাগুয়ে ম্যাচে হ্যাটট্রিক। পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে একাই করেছিলেন চার গোল। দু’টি জোড়া গোল। তাঁর সৌজন্যেই ফ্রান্স তৃতীয় হয়েছিল। ’৫৮ বিশ্বকাপই ছিল তাঁর কেরিয়ারের প্রথম এবং শেষ বিশ্বকাপ। তাতেই ইতিহাস গড়েন।
এক ম্যাচে সর্বোচ্চ কার্ড: ২০০৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ যেন রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। ২৫ জুন জার্মানির ন্যুরেমবার্গে ছিল খেলা। রেফারি ভ্লাতিনিন ভ্লাতেনোভিচ ইভানভ দুই দলের ফুটবলারকে দেখিয়েছিলেন ১৬টি হলুদ কার্ড এবং চারটি লাল কার্ড। পর্তুগালের কস্টিনহা, ডেকো এবং নেদারল্যান্ডসের খালিদ বোলাহরুজ, জিওভানি ভ্যান ব্রঙ্কহর্স্ট লাল কার্ড দেখায় দু’দলই ৯ জনে খেলতে বাধ্য হয়েছিল।
বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ কার্ড: পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডস (২০) আধুনিক পাওয়ার ফুটবলের যুগে ম্যাচে শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের বিষয়টি বেশ নিয়মিতই। প্রায় সব ম্যাচেই ফুটবলারদের কম-বেশি শারীরিক শক্তির প্রয়োগ করতে দেখা যায়। কিন্তু ২০০৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচে যেন ফুটবলাররা বিষয়টিকে বেশিই গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছিলেন।
সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জয়ী ফুটবলার: ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে একমাত্র ফুটবলার হিসাবে ৩টি বিশ্বকাপ (১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০) জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। একজন খেলোয়াড়ের কেরিয়ার দীর্ঘ হলেও, তিনটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা প্রায় অসম্ভব একটি স্বপ্ন।
এক ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক: ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে উন্মাদনার পারদ ছিল তুঙ্গে। ব্রাজিল ও উরুগুয়ের ফাইনাল দেখতে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫০ জন দর্শক। হালফিলের আধুনিক স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা এবং ফিফার কড়া নিরাপত্তা নিয়মের কারণে এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব।
সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা: ক্যামেরুনের রজার মিল্লা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ৪২ বছর ৩৯ দিন বয়সে রাশিয়ার বিপক্ষে গোল করেছিলেন। আধুনিক ফুটবলের দুই আইকন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লিওনেল মেসির বয়স যথাক্রমে ৪১ এবং ৩৯। দু’জনেরই এবারের বিশ্বকাপ ‘লাস্ট ডান্স’ মনে করা হচ্ছে। তাই মিল্লার রেকর্ড ভাঙা যে কোনও ফরোয়ার্ডের কাছেই দুরূহ।
সবচেয়ে বেশি বয়সে মাঠে নামা: বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র, তা প্রমাণ করে দিয়েছিলেন মিশরের গোলরক্ষক এসাম এল-হাদারি। ২০১৮ সালের ২৫ জুন, রাশিয়া বিশ্বকাপে তিনি ৪৫ বছর ৫ মাস ১৬ দিন (প্রায় ৪৫ বছর ১৬১ দিন) বয়সে সৌদি আরবের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তিনি খেলেছিলেন। একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে এত বেশি বয়সে খেলা চালিয়ে যাওয়া বিরল দৃষ্টান্ত।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 08:57 PM Jul 05, 2026Updated: 08:57 PM Jul 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
