গরুমারা জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি রিসর্টে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার রাতে ওই হোটেলে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজন মহিলাকেও। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে তাঁদের নিয়ে এসে ওই রিসর্টে দেহ ব্যবসা করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে পুরো এই চক্র চলত বলেও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে ধৃতদের।
কীভাবে ওই রিসর্টে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কীভাবে যোগাযোগ রাখা হত—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গরুমারা জঙ্গলের সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েকবছরে একাধিক রিসর্ট গড়ে ওঠে। যদিও সেই রিসর্টগুলির বৈধতা নিয়ে রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। এরমধ্যে ওই হোটেলগুলিতে বেআইনি কার্যকলাপ চলছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ আসছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি শুরু করে মালবাজার থানার পুলিশ। পুলিশের নজরদারিতে বেশ কিছু তথ্য উঠে আসে। এরপরেই রবিবার নির্দিষ্ট ওই রিসর্টটিকে চিহ্নিত করেন পুলিশ আধিকারিকরা। এরপরেই রবিবার রাতে সেখানে চলে অভিযান। হোটেলের বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি চালিয়ে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ অসমের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
ধৃতদের ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর রিসর্টটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ওই রিসর্টে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কীভাবে যোগাযোগ রাখা হত, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এদিকে, গরুমারা জঙ্গলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলের পাশে এ ধরনের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটন মহলের একাংশ। স্থানীয় রাজু নেপালি বলেন, “ডুয়ার্সে পর্যটকেরা মূলত হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখতে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী রিসর্টে এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ চলতে থাকলে ডুয়ার্সের পরিবেশ ও পর্যটন সংস্কৃতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।” তবে পুলিশের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে রাজু নেপালি আরও বলেন, এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পুলিশের অভিযানের ফলে জঙ্গলের পার্শ্ববর্তী রিসর্টগুলিতে বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হবে এবং ডুয়ার্সের পর্যটন পরিবেশ আরও সুরক্ষিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে মালবাজার থানার পুলিশ।
