রাজ্যের পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে চায় নতুন সরকার। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত 'ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার্স কনফারেন্স'-এ যোগ দিয়ে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ বুঝিয়ে দিলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ সহযোগিতাকে পাথেয় করে বাংলায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুপরিষেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে পর্যটন ব্যবসার প্রসারে হোমস্টে নীতিতে বড়সড় রদবদলের কথা জানিয়েছেন তিনি। পর্যটকদের প্রতারণা থেকে বাঁচাতে বিশেষ অ্যাপ 'বন্ধু' চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী এদিন বলেন, এতদিন পর্যন্ত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি হোমস্টেতে সর্বোচ্চ ৬টি রুমের অনুমতি মিলত। কিন্তু পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও মালিকদের বাণিজ্যিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে নতুন নীতিতে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৮টি করা হচ্ছে। তবে এই ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুনও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি হোমস্টে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালিত হয়। এদিকে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের সফরকে সম্পূর্ণ তিক্ততামুক্ত করতে কোমর বাঁধছে প্রশাসন। অনেক সময়ই দেখা যায়, কিছু অসাধু চক্রের চক্করে পড়ে বুকিং করেও পর্যটকেরা গাড়ি বা হোটেল পান না, কিংবা মাঝরাস্তায় পর্যটকদের ফেলে গাড়ি চলে যাওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এই ধরনের কালো দাগ মুছতে রাজ্য পর্যটন দপ্তর বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ আনতে চলেছে।
মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের 'নিধি' পোর্টাল কিংবা রাজ্য পর্যটন দপ্তরের খাতায় যেসব হোটেল, হোমস্টে বা ট্যুর অপারেটররা আইনত নথিভুক্ত কেবলমাত্র তাঁদের নাম ও পরিষেবাই এই অ্যাপে স্থান পাবে। রাজ্য সরকার এই অ্যাপটির ব্যাপক ও আগ্রাসী বিপণন বা 'অ্যাগ্রেসিভ মার্কেটিং' করবে। পর্যটকদের প্রতি দপ্তরের বার্তা থাকবে, তাঁরা যেন ভ্রমণের আগে এই বিশ্বস্ত অ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করে কেবল নথিভুক্তদের থেকেই পরিষেবা নেন। এই অ্যাপটি পর্যটকদের জন্য প্রকৃত অর্থেই এক 'বন্ধু' বা গাইড হিসেবে কাজ করবে।"
