কল্যাণ চন্দ, বহরমপুর: নির্দিষ্ট একটি স্টেশন পেরোলেই ট্রেনের দিকে ধেয়ে আসছে ঢিল, পাথর। টার্গেট ১৩১০৩ আপ শিয়ালদহ থেকে লালগোলাগামী ভাগীরথী এক্সপ্রেস। এই ট্রেনে এমন ঘটনা হামেশাই হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রী থেকে হকারদের। রাতের অন্ধকারে বেথুয়াডহরি স্টেশন পেরোলেই ট্রেনের জানলা লক্ষ করে কে বা কারা মোটা মোটা পাথর ছুড়ছে। ভয়ে অনেকে জানলা বন্ধ করে রাখছে অসংরক্ষিত কামরাগুলিতে। যে সমস্ত যাত্রীরা বিষয়টি জানেন না তারা পড়ছেন বিপদে। রেল পুলিশ দু-একদিন টহল দিলেও পরিস্থিতি একইরকম রয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
[কেউ দলের চাকর নন, দল ছেড়ে বিষোদ্গার মুকুলের]
গত রবিবার রাত নটা নাগাদ বেথুয়াডহরি রেল স্টেশন পেরনোর সময় এই ঘটনা ঘটে। এসি কামরায় পিছনে অসংরক্ষিত কামরার জানলায় জোরে শব্দ হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। আসন ছেড়ে যাত্রীরা ১০২ নম্বর সিটের কাছে উঠে আসেন। দেখা যায়, জানলার কাচ টুকরো টুকরো হয়ে সিটে পড়ে আছে। পাশে আস্ত একখানা পাথর। অল্পের জন্য রক্ষা পান এক যাত্রী। এই নিয়ে রাকিব আহমেদ নামে এক যাত্রীর বক্তব্য, সন্ধ্যার পর থেকে ঠান্ডা হাওয়া আসছিল বলে রানাঘাটের পর জানালা তিনি অর্ধেক নামিয়ে দেন। রাত হয়ে যাওয়ায় চোখ জুড়িয়ে গিয়েছিল তাঁর। আচমকা বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় ভগবানগোলার এই বাসিন্দার। দেখেন হুড়মুড় করে কাচ ভাঙতে শুরু করেছে। ডান কাঁধে তাঁর আঘাত লাগে। তবে জানালা লাগানো না থাকলে বড়সড় বিপদ ঘটে যেত। রাকিবের সামনে এমারজেন্সি জানালার কাছে বসে ছিলেন বহরমপুরের তন্ময় সাহা। তাঁর জানালা খোলা ছিল। একটুর জন্য রক্ষা পেয়েছেন তন্ময়। তন্ময়বাবুর অভিযোগ, রেলের ভাড়া বাড়লেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নেই।
[সৈকত পরিচ্ছন্ন করতে এই ফেরিওয়ালা যা করলেন তা জানলে গর্ব হবে]
এই নিয়ে ট্রেনের হকাররাও বলছেন, এধরনের ঘটনা প্রায়ই হয়। কেউ অভিযোগ জানায়। কেউ চেপে যায়। শিয়ালদহ থেকে লালগোলা যাওয়ার পথে নদিয়া জেলার বেথুয়াডহরি রেল স্টেশন পেরোলেই এই ঘটনা ঘটে। কৃষ্ণনগর জিআরপি অবশ্য এই নিয়ে যাত্রীদের রাজ্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়। কৃষ্ণনগরের জিআরপির ওসি রজত হালদার জানান, রাতে পুলিশ টহল দেবে।
The post নির্দিষ্ট স্টেশন পেরোলেই ট্রেন লক্ষ্য করে ঢিল-পাথর, আতঙ্কে যাত্রীরা appeared first on Sangbad Pratidin.
