গরমকালে গৃহস্থবাড়ির ফ্রিজটির দায়িত্ব অনেক! সারাক্ষণ জিনিস ঠেঁসে রাখতেই হয় তাতে। কিন্তু এই হেভি-ডিউটির দরুন অনেক সময়েই আলগা হয়ে যায় ফ্রিজের দরজা। দরজার বর্ডার জুড়ে লাগানো রাবার সিল বায়ুরোধী ক্ষমতা হারায়। ফলে হু হু করে কারেন্ট পুড়তে থাকে একদিকে, অথচ ভিতরে রাখা জিনিস ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না। খাবার পচে যায়, আইসক্রিম জাতীয় কিছু রাখলে, তা থেকে জল কাটতে হবে। তাছাড়া ফ্রিজের কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে।
ফ্রিজের রাবার নষ্ট হলে, ভিতরের অংশ ঠান্ডা রাখার ক্ষমতাও নষ্ট হয়।
সমস্যা হল, দরজায় লাগানো রাবার ক্ষমতা হারিয়েছে কি-না, তা হুট করে দেখে বোঝার উপায় নেই। যদি সত্যি তেমন কিছু না হয়ে থাকে, তাহলে মিস্ত্রী ডাকাও বৃথা হয়ে যায়। ধন্দ্বে গৃহস্থ। আর তাই অভিজ্ঞরা পরামর্শ দেন, মিস্ত্রীকে খবর দেওয়ার আগে, এ-ফোর পেপার টেস্ট করার (a4 paper door seal test)। অতিসাধারণ এক টুকরো কাগজ জোগাড় করতে পারলেই ফ্রিজের দরজাটি কেমন অবস্থায় রয়েছে, তা বাড়িতে থেকেই পরীক্ষা করতে পারবে গৃহস্থ।
কীভাবে করবেন এই পরীক্ষা?
এই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন কেবলমাত্র একটি এ-ফোর মাপের কাগজ। প্রথমে ফ্রিজের দরজা খুলে ধরুন। কাগজটিকে এমনভাবে রাখুন, যাতে তার অর্ধেক অংশ ফ্রিজের ভিতর ও বাকি অর্ধেক বাইরে থাকে। এবার দরজা বন্ধ করুন। ধীরে ধীরে কাগজটিতে টান দিন।
যদি কাগজ টানতে কিছুটা বাধা অনুভব করেন, তাহলে বুঝবেন দরজার রাবার সিল ঠিকভাবে কাজ করছে। কিন্তু যদি কাগজ খুব সহজেই বেরিয়ে আসে, বা বের করতে তেমন বেগ না লাগালেও চলে, তাহলে বুঝতে হবে যে রাবার সিট বা গ্যাসকেট পরিষ্কার করা বা বদলানোর প্রয়োজন রয়েছে।
কাগজটির অর্ধেক ভিতরে ঢুকিয়ে, টান দিন ধীরে ধীরে।
এই অবস্থায় ফ্রিজ সারাইয়ের মিস্ত্রী ডাকতে হবে, সে নিয়ে কোনও ধন্ধ থাকবে না গৃহস্থের মনে। এ-ফোর পেপার পরীক্ষা করতে সময় লাগে এক মিনিটেরও কম। কিন্তু এই অতি সহজ টোটকাই ধরা পড়বে ফ্রিজের হালচাল। দীর্ঘদিন চলার পর বাড়ির ফ্রিজটিতে এমন ধরনের সমস্যা হতেই পারে, তাতে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। বাড়ির ফ্রিজের বয়স যদি অনেকখানি হয়ে থেকে থাকে, তবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অবশ্যই করুন এই এ-ফোর পেপার টেস্ট।
