সমাজ মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রতিযোগিতা যেন অনেকের পিছু ছাড়ছে না। আর তাতেই কখনও কখনও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। বোলপুরে এক ঘটনা ফের সেই প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। ভিডিও ভাইরাল করার নেশায় ভিডিও তৈরি! আর তা কেন্দ্র করে বোলপুরের জামবুনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক যুবককে মারধরের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনাটি নিয়ে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই উঠছে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও। চোর চোর প্রাসঙ্গিক ভিডিও করায় স্থানীয়রা বুঝতেই পারেননি তিনি ভিডিও তৈরি করছেন। ফলে ইলামবাজারের মরুন্ডি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জু শেখ জামবুনি বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় যখন ভিডিওটি তৈরি করছিলেন তখন মানুষজনের সন্দেহ হয় এবং গণপ্রহার খেতে হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাগল সেজে একটি দোকান থেকে সবজি নেওয়ার দৃশ্য সামনে আসতেই স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে বচসা বাধে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রকাশ্য রাস্তায় ওই যুবককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সঞ্জু শেখের অভিযোগ, "আমি বারংবার বলার চেষ্টা করেছি আমি চোর নই, পাগল নই। কেউ কথা শোনেনি অপরিচিত হিসাবেই মারধর শুরু করে। মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই ভিডিও বানাই। এমন হবে ভাবিনি।"
তবে বোলপুরের একাংশ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি কিছু কনটেন্ট নির্মাতা বাজারে এসে হঠাৎ সবজি তুলে নেওয়া বা খাওয়ার অভিনয় করছেন, কেউ আবার হঠাৎ ক্যাস বাক্সের দিকে ঢুকে পড়ছেন। এতে ব্যবসার বিঘ্ন ঘটছে। বিনোদনের নামে এমন আচরণ অনভিপ্রেত। থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে ডিজিটাল যুগের নতুন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে, তেমনই মনে করিয়ে দিয়েছে বিনোদন ও জনপ্রিয়তার দৌড়ে সামাজিক সংবেদনশীলতা হারিয়ে গেলে তার ফল কতটা অপ্রত্যাশিত হতে পারে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।
