এসআইআরের চাপ আর নিতে পারছিলেন না! শেষপর্যন্ত গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন বিএলও! সেই ঘটনা দেখেই জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ফেরিঘাটের কর্মীরা। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পরও আতঙ্ক কাটেনি ওই ব্যক্তির। আর এই চাপ নেওয়া যাচ্ছিল না, বলে ফের জানিয়েছেন তিনি। ওই ব্যক্তির নাম মহম্মদ কায়ামুদ্দিন। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির শ্রীরামপুরে।
জানা গিয়েছে, মহম্মদ কায়ামুদ্দিন উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ের বাসিন্দা, পেশায় স্কুল শিক্ষক। আজ, শনিবার তিনি টিটাগড় থেকে শ্রীরামপুরে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল একটি ব্যাগ। এরপর ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে উঠেছিল। লঞ্চ মাঝ নদীতে এসে সকলকে অবাক করে গঙ্গায় ঝাঁপ মারেন তিনি। ওই ব্যাগটি লঞ্চেই রাখা ছিল। ঘটনায় উপস্থিত অন্যান্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। ফেরির কর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য দ্রত জলে ঝাঁপ দেন। ততক্ষণে ওই ব্যক্তি কিছুটা জলের তোড়ে ভেসেও গিয়েছিলেন। বেশ কিছু সময় পরে জল থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাণে বেঁচেও আতঙ্ক বিএলওর চোখেমুখে যেন বসে আছে। তাঁকে উদ্ধার করে লঞ্চেই বসানো হয়। প্রাথমিক শুশ্রুষা করা হয়। দেখা যায়, ওই ব্যাগের মধ্যে এসআইআরের ফর্ম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। উপস্থিত অন্যান্যরা জানিয়েছেন, ওই ব্যাগ ঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়ায় কথা জানিয়েছিলেন বিএলও মহম্মদ কায়ামুদ্দিন। তারপরই নিজেকে শেষ করার জন্য লঞ্চ থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ মারেন তিনি! কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
মহম্মদ কায়ামুদ্দিন জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার চাপ আর তিনি নিতে পারছেন না। এখনও অনেক তথ্য, পরিসংখ্যান আপলোড করা বাকি রয়েছে। এদিকে দিন কমে আসছে। শুধু তাই নয়, যেসব মানুষকে প্রথমে ডাকা হয়নি, তাঁদেরও এখন শুনানির চিঠি আসছে! সেসব ব্যক্তি, পরিবারের সদ্যসদের কী কথা বললেন? সেই বিষয়েও দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছিল। সেজন্য এসআইআর চাপ আর নিতে না পেরে তিনি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন! তাঁকে উদ্ধারের পর শ্রীরামপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
