শান্তনু কর-অভ্রবরণ চট্টপাধ্যায়: কার্তিকে কাঞ্চন দর্শন! চোখ খুলতেই ধরা দিচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। একেবারে সাতসকালে 'ঘুমন্ত বুদ্ধ'কে দেখে আপ্লুত জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দারা। হাতের নাগালে এমন মুহূর্ত বারবার ধরা দেয় না! এই বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিন জলপাইগুড়ি শহর থেকে দেখা মেলে শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর। মাঝে দীর্ঘ কয়েক দিনের বিরতির পর ফের জলপাইগুড়ির মানুষের 'দুয়ারে' ধরা দিলেন তিনি। এ যেন প্রকৃতির ‘সারপ্রাইজ গিফট’! আর সেই স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে সেই মুহূর্তকে ক্যামেরবন্দি করে ফেলেন। শুধু তাই নয়, সমাজমাধ্যমে তা রীতিমতো ভাইরাল।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই পরিষ্কার আকাশ। হালকা হাওয়ায় মনোরম একটা পরিবেশ। শীতকে বরণ করতে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে পাহাড়। আর এই মনোরম পরিবেশে এদিন সকালে কেউ বেরলেন প্রাতঃভ্রমণে, আবার কেউ কাজে! সকালে বেরিয়ে নীল আকাশের ক্যানভাসে হিমালয়ের শিখর দর্শন করে আপ্লুত পথচারীরা। জলপাইগুড়ি শহরের করলা সেতু, তিস্তা পার, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, রেলস্টেশন থেকে একেবারে স্পষ্টভাবে দেখা যায় সেই বরফ ঢাকা পাহাড় শৃঙ্গ। সাতসকালে কাঞ্চনজঞ্ঘা শৃঙ্গকে হাতের নাগালে পেয়ে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার সুযোগ হাতছাড়া করলেন না অনেকেই। একেবারে উচ্ছ্বসিত তাঁরা।
সাত সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন।
এদিন সকালে হাঁটতে বেরিয়ে চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে একেবারে আপ্লুত জলপাইগুড়ির বাসিন্দা মিমি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ''প্রতিদিন হাঁটতে আসি। আজকের সকালটা একেবারে অন্যরকম। চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে মন মুগ্ধ হয়ে গেল।''
তাঁর মতোই এদিন হাঁটতে বেরিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন গোপাল দে। সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন মুহূর্তটা। গোপালবাবু বলেন,''সকালবেলা বাড়তি পাওনা। জলপাইগুড়ি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ফুল রেঞ্চ দেখতে পাচ্ছি।'' শুধু জলপাইগুড়ি নয়, শিলিগুড়ি থেকেও এদিন দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। একইভাবে অনেকেই উড়ালপুলে দাঁড়িয়ে তা ক্যামেরাবন্দি করেন। ঝলমলে দিনে এমন রূপদর্শনে আপ্লুত হয়ে পড়েন সেখানকার বাসিন্দা থেকে পর্যটক সবাই।
