সংগ্রাম সিংহরায়, শিলিগুড়ি: অস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র নয়, কবিতা, গানই হোক হাতিয়ার। এভাবেই প্রতিরোধ গড়ার ডাক দিলেন কবি-গীতিকার শ্রীজাত। শনিবার শিলিগুড়ির পর্যটন দপ্তরের টুরিস্ট লজ ‘মৈনাক’-এ দার্জিলিং লিটারারি মিটে এসে এ কথা বলেন তিনি। দেশ জুড়ে এখন চরম দুঃসময় বলে মন্তব্য করেন গায়ক-অভিনেতা-পরিচালক অঞ্জন দত্ত। ছিলেন কবি সুবোধ সরকার, বিনায়ক সেনরা। তাঁদের অনুষ্ঠান শুনতে ও দেখতে সকাল থেকেই ভিড় ছিল। হাজির হন পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবও।
[এটাই বাংলা, হনুমান জয়ন্তীর ব়্যালিতে জল হাতে এগিয়ে এলেন ফিরোজরা]
এদিন অনুষ্ঠান চলাকালীন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা শ্রীজাতর বিরুদ্ধে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। যদিও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি শ্রীজাত। সম্প্রতি তাঁর কবিতার কিছু পংক্তি নিয়ে আপত্তির জেরে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন কবি। শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নিরাপত্তা দেওয়া হয় শ্রীজাতকে। এবার সেই শিলিগুড়িতেই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কবি।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে শুভ শীল বলেন, ”উনি হিন্দু ধর্মকে অবমাননা করেছিলেন। তার বিরোধিতা করছি। আজ যদি শ্রীজাতকে ডাকা হয় তাহলে তসলিমা নাসরিনকে কেন ডাকা হবে না? কেন সলমন রুশদিকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না? শ্রীজাতর মতো লোককে কেন প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে? এরকম সাহিত্য সম্মেলন যেন বারবার হয়। কিন্তু, শ্রীজাতর মতো ‘অপহিন্দু’-কে যেন এখানে ডাকা না হয়। এটাই আমাদের দাবি।”
[আসানসোলের মানুষকে শান্তি বজায় রাখার অনুরোধ রাজ্যপালের]
এদিন শ্রীজাত বলেন, “অস্ত্রের ঝনঝনানি থামাতে পারে একমাত্র কবিতা চর্চাই। তার জন্য সবাইকে পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।” এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে হিন্দুধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এক সদস্য। এদিন অবশ্য নেতিবাচক কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। অঞ্জন দত্ত বলেন, “গোটা পৃথিবী জুড়ে অশান্তি চলছে। একনায়কতন্ত্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে আরও বেশি সাংস্কৃতিক যোগাযোগ প্রয়োজন।”
[বিহারে দাঙ্গায় উসকানির অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা]
The post শিলিগুড়িতে বিক্ষোভে পড়লেন শ্রীজাত, ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান হিন্দু জাগরণ মঞ্চের appeared first on Sangbad Pratidin.
