শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি-রাষ্ট্রপ্রেম-অখণ্ড ভারতের ভাবনা, আইনসভার বক্তৃতা এবং সর্বোপরি স্বাধীনত্তোর ভারতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান। এসব বিজেপির নতুন প্রজন্মের পার্টি কর্মীদের কাছে তো বটেই, আমজনতার কাছেও তুলে ধরা দরকার। আর উত্তর কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির যে পুরনো রাজ্য দপ্তর, রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী এই বাড়ি যেখানে ছিলেন শ্যামাপ্রসাদও। সেই বাড়িতেই এবার শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে একটি মিউজিয়াম তৈরি করা হবে বিজেপি পার্টির তরফে। যেখানে থাকবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত জিনিসপত্র। তাঁর চেয়ার থেকে শুরু করে জনসঙ্ঘ থেকে শুরু করে বাংলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আবার রাজৈতিকভাবে গুরুত্ব বাড়তে চলেছে ৬ নম্বর পার্টি অফিসের।
মুরলীধর সেন লেনের পদ্ম শিবিরের এই পার্টি অফিসটি বঙ্গ বিজেপির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ঘাঁটি। ১৯৪৬ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কাজকর্ম শুরু করেন। পরবর্তীকালে ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ গঠিত হলে, এই ঠিকানায় তাদের কলকাতা অফিস তৈরি হয়। ১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই কার্যালয়টি জনসংঘ ও বিজেপির যৌথ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদবানি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই বাড়িতে এসেছেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই বাড়িতে বসেই নানান কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। জীবনের অনেকটা সময় এই ঐতিহাসিক বাড়িতে কাটিয়েছেন তিনি।
শ্যামাপ্রসাদের কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে এই বাড়িতেই হবে মিউজিয়াম। তাঁর ১২৫ তম জন্মজয়ন্তীতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এটা নিয়ে ভাববেন। মিউজিয়ামে শ্যমাপ্রসাদকে নিয়ে নানা অজানা তথ্য থাকবে। তাঁর উপর লেখা বিভিন্ন বইও সেখানে স্থান পাবে। তাঁকে নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ লেখা ও দুষ্প্রাপ্য ছবির সম্ভারও থাকবে। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য কার্যালয় সল্টলেকে রয়েছে। মুরলীধর সেন লেনের পুরনো রাজ্য দপ্তরে এখন উত্তর কলকাতা জেলা পার্টির কাজকর্ম পরিচালনা হয়। এখানে মিউজিয়াম হলে দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ বাড়বে।
