মাটিগাড়ায় (Matigara) নাবালক খুনে মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ানকে আদালতে পেশ করতে গিয়ে বেগ পেল পুলিশ। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ স্থানীয়দের। আদালত চত্বরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তকে সবার শেষের এজলাসে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তিন দিন গা ঢাকা দেওয়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে ত্রিকোণ প্রেমের জেরে ছাত্র খুনে (Siliguri Student Death) মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ জলপাইগুড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে আসা হয়। সেই সময় এলাকার মহিলারা তার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আদালত চত্বরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযুক্তকে এজলাসে পেশ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু জনতাকে থামানো সম্ভব হচ্ছিল না! অবশেষে অতিরিক্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে অভিযুক্তকে সবার শেষে আদালতে পেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছে এলাকাবাসী।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। ওইদিনই বেপাত্তা হয়ে যায় মাটিগাড়ির শিমুলতলার বাসিন্দা এক দশম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিলেও তার সন্ধান পায়নি। অবশেষে মাটিগাড়া থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। তাতেও লাভ হয়নি। এরপর পুলিশি তদন্তের গাফিলতির অভিযোগ তুলে থানায় বিক্ষোভ দেখায় নাবালকের পরিবার। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শুরু হয় মোবাইল ও কল রেকডিং ট্র্যাকিং।
এরপরই নাবালকের এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তাতে প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, শনিবার তাঁদেরই বন্ধু রাজ পাসোয়ান (বয়স ২৪) নিখোঁজ নাবালককে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে প্রথমে দুজনের মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতি হয়। রাজ রীতিমতো ঘায়েল করে সেই নাবালককে। পুলিশি অনুমান, মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে সেই নাবালককে হত্যা করে সে। গোটা ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ছিল আরও এক নাবালক। ফোন রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরে দ্বিতীয় নাবালককে জিজ্ঞাসাবাদে পরই সোমবার গভীর রাতে সুকনার চা বাগান থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ পাঠানো হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
এই নৃশংসতার নেপথ্যে উঠে আসে ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব। মৃত কিশোরের সঙ্গে এলাকার এক কিশোরীর সম্পর্ক ছিল। ওই কিশোরীর সঙ্গে অভিযুক্তের রাজেরও সম্পর্ক ছিল বলে অনুমান। তার জেরেই খুন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। দেহ উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার করা হয় একজনকে। তার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এবার জালে মূল অভিযুক্ত। এবিষয়ে ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, “আমাদের অনুমান মাঝে বান্ধবীকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
