গত ফেব্রুয়ারিতে উন্নয়নের শরিক হতে বামশিবির ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন প্রতীক-উর রহমান। কিন্তু ছাব্বিশে তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়েছে মানুষ। তারপর ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল। প্রথমদিনের সৈনিকদের প্রায় ৯৯ শতাংশই সঙ্গ ত্যাগ করেছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত অন্তরালে প্রতীক-উর। তবে কি এবার অভিষেককে ছেড়ে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লেখাবেন তিনিও? অবশেষে মুখ খুললেন যুবনেতা।
২০০৮ সাল নাগাদ সরাসরি বাম রাজনীতিতে যুক্ত হন প্রতীক উর। অর্থাৎ দলের সুসময় তিনি দেখেছেন, তা বলা যায় না। দুঃসময়েই বামেদের ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। দলের তরফেও সাধ্য মতো তাঁকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় সিপিএমের তরুণ নেতাদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছিলেন। প্রায় সব আন্দোলনেই প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ঝাঁজালো আক্রমণ করেছেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন। একাধিক ভোটে তাঁকে প্রার্থী করেছে লালপার্টি। জেলা ও রাজ্য কমিটিতেও জায়গা পেয়েছেন। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে সিপিএমের প্রতি একরাশ উষ্মা প্রকাশ করে সিপিএম ছাড়েন প্রতীক-উর। তারপরই যোগ দেন তৃণমূলে। বলেছিলেন, উন্নয়নের শরিক হতে চান। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ঋতব্রতর যোগের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একটা সময় দু'জন একসঙ্গে বাম রাজনীতি করতেন। ফলে ঘনিষ্ঠতা ছিল। পরবর্তীতে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূলে। জানা যায়, প্রতীক উরের দলবদলের নেপথ্যে ছিলে সেই 'ঋতদা'ই।
পালাবদলের পর বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ একেবারে বদলে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের রাশ নেই বললে অত্যুক্তি হবে না। অন্যদিকে প্রবল চাপে অভিষেকও। একে মামলার পাহাড়, তার উপর একের পর এক বাড়ি, কার্যালয় ভাঙার নোটিস পড়েছে। গতকাল অর্থাৎ শনিবার আমতলার যে কার্যালয়ে অভিষেকের হাত থেকে পতাকা নিয়েছিলেন প্রতীক উর, সেখানে বুলডোজার চলেছে।সেখানেও দেখা যায়নি প্রতীক উর। এদিকে আবার প্রতীক-উরের 'ঋতদা'র দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল। অবশেষে গোটা বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এ মুখ খুললেন যুব নেতা। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত আছি। এই বিষয়ে কিছু বলব না এমন নয়। সময় এলে বলব। কিন্তু এখনই কিছু বলছি না।"
