২০২৫ সালে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনা। অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। নেপথ্যে মদতের অভিযোগ উঠেছিল কোচবিহারের ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের বিরুদ্ধে। এবার সেই নেতাকেই চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। একুশে জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কোচবিহারের এক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়। এছাড়াও পুন্ডিবাড়ি থানায় অভিজিতের বিরুদ্ধে শুভেন্দু অধিকারীর উপর বিরোধী দলনেতা থাকার সময় হামলার অভিযোগ সহ আরও একাধিক মামলা রয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে পুলিশের তরফে তাঁর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছিল, যদিও তিনি গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এগিন বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পুলিশের জালে কোচবিহারের ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল জেলা সভাপতি। সূত্রের খবর, ভোটে হিংসা, উস্কানিমূলক মন্তব্য সহ একাধিক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
গতবছর অগাস্ট মাসে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল কোচবিহারের বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম অভিজিৎ। রাজ্যে পালাবদল হতেই শুরু হয় অ্যাকশন। গত মে মাসেই কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি শুভঙ্কর দে-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কোচবিহারে শুভেন্দুর অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় 'পূর্বপরিকল্পনা'র তত্ত্ব তুলে ধরেছিল গেরুয়া শিবির। তৎকালীন বিরোধী দলনেতার বুলেটপ্রুফ গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় কার্যত রণক্ষেত্রে চেহারা নিয়েছিল খাগড়াবাড়ি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল বাহিনী নামাতে হয়েছিল পুলিশকে। ঘটনাস্থল থেকেই সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
উল্লেখ্য, খুন পরিকল্পনা করেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর প্রত্যক্ষ মদতে এই হামলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা যোগ ছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু। প্রসঙ্গত, আগেই একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন উদয়ন। এবার আরও এক তৃণমূলের তাবড় নেতা পুলিশের জালে। জানা গিয়েছে, ধৃত কোচবিহারের ওই তৃণমূল নেতা নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিল বলে পরিচিত ছিলেন। কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকেই নাকি তাঁর বাড়বাড়ন্ত জেলার নেতাদের নজর এড়ায়নি। এ নিয়ে দলের অন্দরেও একাধিকবার ক্ষোভ উঠে এসেছে। তাঁর আগে যিনি জেলা সভাপতি ছিলেন, সেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পদ খোয়ানোর পিছনেও কলকাঠি নেড়েছিলেন এই অভিজিৎ। এবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কোচবিহারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই আদালতে পেশ করে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে পুলিশ।
