shono
Advertisement

Breaking News

Purulia

অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে স্কুলের আবর্জনা সাফাই, শ্রমদান করে খুশি পুরুলিয়ার দম্পতি

গত সোমবার সকালে মমতা দেবী হাতে কোদাল আর ময়লা ফেলার ধামা নিয়ে তাঁদের গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের নলকূপের কাছে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করেন। এইভাবে শ্রম দান করায় খুশি আমলাতোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ গ্রামের মানুষজন।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 12:11 PM Aug 26, 2026Updated: 01:04 PM Aug 26, 2026

সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা ঢুকেছে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। টাকা পেয়ে পুরুলিয়ার (Purulia) হুড়ার আমলাতোড়ার বাসিন্দা ওই মেগা প্রকল্পের উপভোক্তা মমতা মাহাতোর মনে হয়েছে, রাজ্য সরকার যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে এই সমাজের জন্য তার কিছু করা উচিত। সেই লক্ষ্যেই গ্রামের স্কুলের নলকূপ-সহ আশপাশ জমে থাকা আবর্জনা সাফাই করে শ্রম দিলেন তিনি। এই কাজে তাঁকে সহায়তা করেন তাঁর স্বামী লেলিন মাহাতো। গত সোমবার সকালে মমতা দেবী হাতে কোদাল আর ময়লা ফেলার ধামা নিয়ে তাঁদের গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের নলকূপের কাছে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করেন। এইভাবে শ্রম দান করায় খুশি আমলাতোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহ গ্রামের মানুষজন।

Advertisement

উপভোক্তা মমতা মাহাতোর সংসারে রয়েছেন তাঁর স্বামী, দুই মেয়ে ও শ্বশুর-শাশুড়িকে। তাঁদের বাড়িতেই রয়েছে ছোট গ্যারেজ। সেই কাজ সামলান তাঁর স্বামী লেলিন মাহাতো। মমতা দেবীর কথায়, "আমাদের মত দরিদ্র মানুষের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা আমি পেয়েছি। সরকার যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে মনে হয়েছে সমাজের জন্য কিছু করা উচিত। তাই একদিনের শ্রম দিয়ে গ্রামের স্কুলের নলকূপের পাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করলাম। ওই নলকূপের জল ব্যবহার করে পড়ুয়ারা। ফলে জায়গাটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা জরুরি। যে কোনও কারণেই দীর্ঘদিন তা করা হয়নি। আমি ওই কাজে শ্রম দিতে পেরে ভালো লাগছে।"

মমতা দেবীর কথায়, "আমাদের মত দরিদ্র মানুষের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা আমি পেয়েছি। সরকার যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে মনে হয়েছে সমাজের জন্য কিছু করা উচিত।

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি মমতা। 'একটি গাছ মায়ের নামে' কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণও করেন তাঁর স্বামীর সঙ্গে। স্বামী লেলিন মাহাতো বলেন, "সমাজের জন্যই স্ত্রীর এই কাজ দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। তাই নিজেও সাফাই কাজে হাত দিয়েছিলাম।” তাঁদের এই কাজ সমাজ মাধ্যমে এখন ভাইরাল। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনও ওই উপভোক্তাকে কুর্নিশ জানিয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৃত্তিবাস মাহাতো বলেন, "নিয়মিত স্কুল চত্বরকে পরিষ্কার রাখা হয়। নলকূপটি নিচুতে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলের সাথে আবর্জনা চলে আসে। অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা সহ দম্পতির এই কাজ সত্যি প্রশংসনীয়।" আমলাতোড়া গ্রামের বাসিন্দা তুষারকান্তি মাহাতো, শ্রীমন্ত মাহাতো বলেন, "সত্যিই এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সকল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের উপভোক্তা যদি সমাজের কাজে এগিয়ে আসেন। তাহলে সত্যি গ্রামগুলি বদলে যাবে। বদলে যাবে শহর, সমাজ।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement