shono
Advertisement

সনাতনের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল আদালত চত্বর, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রাম

সনাতনকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
Posted: 03:23 PM Aug 02, 2017Updated: 09:53 AM Aug 02, 2017

স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: আবার নতুন করে ফন্দি–ফিকির আঁটছে বুড়ো সনাতন। পুরুলিয়ার সুচকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরকে উত্তরপ্রদেশ থেকে এরাজ্যে নিয়ে আসতেই নিজেকে বাঁচাতে নানান কৌশল অবলম্বন করছে সে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সে আসানসোল স্টেশনে নামতেই তার সাফাই, “সে একাজ করেনি। তার ব্যাটার (ছেলে) বউরা একাজ করেছে।” বুধবার দুপুর বারোটা নাগাদ সনাতনকে কড়া পুলিশি পাহারায় মুখে কালো কাপড় ঢেকে পুরুলিয়া আদালতের দ্বিতীয় কোর্টের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সুযশা মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে তোলা হলে তার সাত দিন পুলিশ হেফাজত হয়। পুরুলিয়া পুলিশের জালে সে ধরা পড়ার পড় থেকেই তদন্তে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিল। তবে আদালতে ওঠার আগে সে যে তদন্তের মোড় ঘোরানোর চেষ্টায় এমন কথা বলবে তা ভাবতেও পারেননি পুরুলিয়ার দুঁদে পুলিশ কর্তারা। তবে এই অভিযোগের কোন সত্যতা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন তার দুই বউমা। বুধবার ভোরে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের চার সদস্যের দল বুড়ো সনাতনকে কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে পুরুলিয়া শহরে নিয়ে আনে। তারপর তাকে পুরুলিয়া মফস্বল থানাতেই রাখা হয়। তবে তার মধ্যে কোন পরিতাপ–অনুশোচনা নেই। লকআপে চা, রুটি, সবজি, ডাল, ভাত খেয়ে দিব্যি আছে। সনাতনের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাকে শহরে ঢোকার আগেই ভোর রাতেই পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার হাড়মাড্ডি ব্লক স্বাস্থ্য
কেন্দ্রে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে নেয় পুলিশ। সনাতনকে বুধবার পুরুলিয়া আদালতে তোলা হবে এই খবর চাউর হয়ে যেতেই তার ওপর নানাভাবে হামলা চালাতে সোশ্যাল সাইটে নানান উসকানি চলছিল। তাতে চিন্তায় ছিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। এদিন সুচকান্ডে অভিযুক্ত সনাতনকে দেখতে সকাল দশটার পর থেকেই পুরুলিয়া আদালতে ভিড়জমতে শুরু করে। তাকে আদালতে তোলার পরেই ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ, স্লোগানে তপ্ত হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। ফলে ডিএসপি, এসআই, এএসআই, সিভিক-সহ এদিন প্রায় পাঁচশ পুলিশকর্মী ছিল আদালতে।

Advertisement

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস জানান, ‘সাত দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। এরপর তাকে আমরা জিজ্ঞসাবাদ করব।’ পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাসের নেতৃত্বে জেলার কয়েকজন পুলিশ আধিকারিক তাকে জেরা করবে। পরে শিশু সুরক্ষা কমিশনের নির্দেশে গঠিত সামাজিক কমিটিরও জেরা করার কথা। এদিন সনাতনের কড়া শাস্তির দাবিতে বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্য-সহ শহরের মানুষজন তুমুল বিক্ষোভ দেখান। উত্তরপ্রদেশের রেনুকোট থেকে শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেসে ফার্স্ট ক্লাসে নিয়ে এসে রাত দুটো নাগাদ আসানসোলে নামায় পুলিশ। তারপর সড়ক পথে নিতুড়িয়ায় ডাক্তারি পরীক্ষায় করিয়ে সড়কপথে ছোট গাড়ি করে তাকে পুরুলিয়া নিয়ে আসে। ট্রেনে সনাতন পুলিশকর্মীদের কীর্তন, বাউলগান, ভজন, দোহা শোনায়। সে নিজে বাঁচতে বউমাদের ওপর দোষ চাপানোয় তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে তাদের গ্রাম পুরুলিয়া মফস্বল থানার নদিয়াড়া। দুই বউমা রিঙ্কি ঠাকুর ও রিনা ঠাকুর বলেন, “কি আর বলব? শ্বশুর মশাইয়ের যে আমাদের ওপর এত রাগ তা আগে বুঝতে পারিনি। নিজেকে বাঁচাতে আমাদের ওপরও দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। এই অভিযোগের কোন মানেই হয়–ই না। সকলেই সব জানে। অভি়যোগ ভিত্তিহীন। আসলে এই ঘটনার সবকিছু আমরা ফাঁস করে দিতেই উনি এমন কথা বলছেন। ওনাকে শ্বশুর বলে পরিচয় দিতে আমাদের লজ্জা লাগে।”

[বাচ্চার শরীরে সুচ ফুটিয়েছে ‘ব্যাটার বউ’, নিজেকে নির্দোষ দাবি সনাতনের]

তবে এই সুচকাণ্ডে সনাতন তার দুই বউমাকে জড়িয়ে দেওয়ায় তাদেরও জেরা করতে পারে পুলিশ। সনাতনের প্রথম পক্ষের স্ত্রী মঙ্গলা গোস্বামীর সাড়ে তিন বছরের শিশু কন্যাকে সুচ ফুটিয়ে খুন ও তাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে ধৃত সনাতনের ওপর। গত শনিবার তাকে উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র জেলার পিপিড় থানার রেনুকোটের একটি হনুমান মন্দির থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে সাধুর ছদ্মবেশে গা ঢাকা দিয়েছিল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার