কাঠফাটা রোদ্দুর। কিংবা রোদ-ঝড়-জল বৃষ্টি। ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ কর্মীদের এসবই অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস-বিধি ছাড়িয়েও যখন ট্রাফিক ডিউটিতে মানবিকতা ফুটে ওঠে। এমনই দু'জন পুরুলিয়ার ট্রাফিক পুলিশ কর্মী, এনভিএফ দীনবন্ধু মাঝি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর বিজয়লক্ষ্মী রাও। পুরুলিয়া (Purulia) ট্রাফিকের এই দুই পুলিশ কর্মী যেন স্তম্ভ, আইকন থেকে পুরুলিয়া ট্রাফিকের মুখ হয়ে উঠেছেন। তাই সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলা পুলিশের তরফে দীনবন্ধু মাঝিকে পুরুলিয়ার বেস্ট ট্রাফিক পার্সোনাল হিসাবে পুরস্কৃত করা হয়।
সামান্য কনস্টেবল থেকে উঠে এসেছেন পুরুলিয়া শহরের বেলগুমার বাসিন্দা এই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর। ট্রাফিকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পাঁচ বছরেরও বেশি সময়।
তবে পুরস্কারই তো আর শেষ কথা নয়। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ থেকে এই শহর পুরুলিয়ার সকলেই জানেন, চেনেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর বিজয়লক্ষ্মী রাওকে। এই শহরের তীব্র যানজটে যখন হাঁসফাঁস অবস্থা হয় পড়ুয়াদের। এমনকি পথ চলতি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা মোটরবাইক, টোটোর ভিড়ে আটকে পড়েন। উল্টো দিক থেকে ছুটে আসতে থাকে গাড়ি। তখন যেন এই লক্ষ্মী ম্যাডাম-ই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সহায়। একজন হাঁটতে না পারা বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে লাঠি যেমন অন্যতম সম্বল হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনই রাস্তা পারাপার করতে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কাছে পুলিশ কর্মী ছাড়িয়ে ভরসার দিদি হয়ে উঠেছেন বিজয়লক্ষ্মী।
সকাল সাড়ে নটা-দশটার ব্যস্ততা। বা রাত ন'টার ক্লান্তি নিয়ে পথচারী বা মোটরবাইক আরোহীরা যখন বাড়ি ফেরেন তখন যদি ট্রাফিকের ডিউটিতে থাকেন এই বিজয়লক্ষ্মী দি। তাহলে বাইক আরোহী থেকে পথচারী তার দিকে চেয়ে হাসি বা ঘাড় নেড়ে যাওয়াটা যেন এই শহরের আম জনতার সৌজন্য হয়ে গিয়েছে। সামান্য কনস্টেবল থেকে উঠে এসেছেন পুরুলিয়া শহরের বেলগুমার বাসিন্দা এই অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর। ট্রাফিকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পাঁচ বছরেরও বেশি সময়। কখনও পুরুলিয়া শহরের হাসপাতাল মোড়। আবার কখনও কোর্ট মোড়। আবার ইউনিয়ন ক্লাবের কাছে। কিংবা অন্য কোথাও। সর্বত্র তাঁর স্মার্ট ট্রাফিক ডিউটি রাস্তা পারাপারে পুরুলিয়ার মানুষের কাছে ভরসা। তবে তার এই কাজ নিয়ে তিনি কোন কথাই বলতে চান না।
অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর বিজয়লক্ষ্মী রাও।
অন্যদিকে তরুণ এনভিএফ কর্মী দীনবন্ধু মাঝির বাড়ি জঙ্গলমহল বলরামপুরের গেড়ুয়ায়। সদর থানা, বেলগুমা পুলিশ লাইন সহ এসপি অফিসে ডিউটি করেছেন। ট্রাফিকে রয়েছেন পাঁচ বছরের বেশি সময়। এখন তার মূল দায়িত্ব মানভূম ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন ট্রাফিক পোস্টের যানজট সামলানো। সকাল আটটা থেকে দুপুর দুটো এই শহরের ট্রাফিকের ভিড় যখন সবচেয়ে বেশি থাকে। তখন তা সুষ্ঠুভাবে সামাল দিয়ে একেবারে হিরো তিনি। ডিউটিতে কখনও তার ডান হাত সিগন্যালের কাজ করছে। আবার কখনো বাঁ হাত। আবার দুই হাত সহ মাথা ঘুরিয়ে সবুজ সংকেত দিচ্ছেন। প্রায় একইভাবে ৪-৫ বছর ধরে ট্রাফিকের কাজ করা আরেক এসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা তপনকুমার পান্ডেও আলাদাভাবে ছাপ ফেলেছেন পুরুলিয়া জেলা পুলিশের ট্রাফিকে।
