যানজট রুখে বেআইনি টোটোতে রাশ টানতে শহর পুরুলিয়ার (Purulia) তিন চাকার এই যানকে কিউআরকোডে জুড়ছে পুরুলিয়া পুরসভা। শহরের যানজট সমস্যায় পুরুলিয়া জেলা সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়সাধনে শহরের শ্রী ফেরাতে নতুন বছরে এই বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে পুরুলিয়া পুর কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই এই কাজের রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছেন পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসক তথা পুরুলিয়া সদর মহকুমাশাসক উৎপলকুমার ঘোষ। আর সেই গাইডলাইন মেনে কাজ শুরু করে দিয়েছে পুরুলিয়া পুরসভার টিম। কাল মঙ্গলবার থেকে পুরুলিয়া শহরের এমএসএ ময়দানে ধাপে ধাপে শহরের সমস্ত টোটোকে কিউআর কোডে যুক্ত করবে। যার ফলে এই শহরে টোটো-র সংখ্যা ঠিক কতো? তার একটি তথ্যপঞ্জি তৈরি হয়ে যাবে পুরুলিয়া পুরসভার কাছে।
সেই সঙ্গে জাতীয় সড়ক এড়িয়ে একটি নির্দিষ্ট রুট তৈরি করা হয়েছে। সেই মোতাবেক তৈরি করা হয়েছে ভাড়ার তালিকা। কোন টোটো চালক অতিরিক্ত ভাড়া চাইলেই যাত্রীরা ওই টোটোতে থাকা কিউ আর কোড-এ মোবাইলে স্ক্যান করে সমস্ত বিশদে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযোগ জানাতে পারবে পুরুলিয়া (Purulia) পুরসভার কাছে। তাছাড়া কোনটা শহরের টোটো, আর কোনটা গ্রামীণ এটাও সহজে চিহ্নিত করতে পারবে পুরুলিয়া পুর কর্তৃপক্ষ। কারণ চলতি মাসের মধ্যেই অর্থাৎ মকর পরবের পর থেকেই গ্রামীন টোটো যেমন শহরে ঢুকতে পারবে না। তেমন শহরের টোটো গ্রামে যেতে পারবে না। পুরুলিয়া শহরে ঢোকার মুখে বিভিন্ন রাস্তায় টোটো স্ট্যান্ড তৈরি করে দিচ্ছে পুরুলিয়া পুরসভা।
পুরুলিয়া পুরসভার প্রশাসক তথা মহকুমাশাসক সদর উৎপলকুমার ঘোষ বলেন, "টোটোতে কিউআরকোড জুড়ে দিয়ে এক কাজের মধ্য দিয়ে আমরা অনেককটা কাজ সফল করতে চাইছি। মঙ্গলবার থেকে টোটোগুলির কিউ আর কোড যুক্ত করার কাজ শুরু হচ্ছে। যা ধাপে ধাপে চলবে। এই কাজের মধ্য দিয়ে যানজট রোখার পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টি রয়েছে। আমরা ওই তিন চাকার যানের একটি তথ্যপঞ্জিও তৈরি করে নিতে পারছি। যা পরবর্তীকালে টোটো সংক্রান্ত কাজে সহায়ক হবে।"
পুরুলিয়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটার আইডি কার্ড এবং টোটোর রেজিস্ট্রেশনের মধ্য দিয়ে টোটোগুলিকে কিউ আর কোডে যুক্ত করা হচ্ছে। পুরুলিয়া আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় শহর এবং গ্রামীণ এলাকা মিলিয়ে ডিসেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী এই জেলায় ৭,২৬৯ টি টোটো রয়েছে। পুরুলিয়া শহরে টোটোর সংখ্যা কত তার সুনির্দিষ্ট তালিকা পুরুলিয়া পুরসভার কাছে নেই। ২০২১- ২২ সালে পুরুলিয়া শহরের টোটোর জন্য যে স্টিকার দেওয়া হয়েছিল সেই সংখ্যাটা ছিল ১৭৩০। তবে ওই সংখ্যার মধ্যে পুরুলিয়া এক এবং পুরুলিয়া দুই ব্লক অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে পুরুলিয়া পুরসভা থেকে যে স্টিকার দেওয়া হয়েছিল তাতে যে সংখ্যা পাওয়া গেছে তা ১৮৫। যদিও এই পুরশহরে টোটো রয়েছে প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি।
এই প্রথম পুরুলিয়া পুরসভা অনুমোদিত টোটো স্ট্যান্ড। ছবি: দীপক রাম
ফলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়ক বাদ দিয়ে টোটো এই শহরের পথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য মোট ২৫ টি রুট তৈরি করা হয়েছে। তিন থেকে পাঁচ কিমি রুটে নির্দিষ্ট করে ভাড়া ধার্য করার পাশাপাশি রুট অনুযায়ী টোটো স্ট্যান্ড হয়েছে। শহর জুড়ে যে কটি টোটো স্ট্যান্ড হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুরুলিয়া শহরের সাহেব বাঁধের পাশে জগার্স পার্কের বিপরীতে। পুরুলিয়া শহরে গ্রামীণ টোটো ঢুকে গেলে জরিমানা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। একটি টোটোতে যাতে পাঁচ জনের বেশি যাত্রী না চড়ে সেই বিষয়টিও দেখবে পুরুলিয়া পুর কর্তৃপক্ষ থেকে ট্রাফিক পুলিশ। বেশি যাত্রী থাকলে সঙ্গে সঙ্গে 'স্পট ফাইন' করা হবে বলে পুরুলিয়া পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। শহরের টোটো স্ট্যান্ড ছাড়াও যে পার্কিং গুলি রয়েছে সেগুলি হচ্ছে রাঁচি রোড, পুরুলিয়া-বাঁকুড়া যাওয়ার রাস্তা, বরাকর রোড, দুলমি এবং স্টেশন লাগোয়া কাটিন পাড়া। তবে কোন গ্রামীণ টোটো রোগীদেরকে নিয়ে শহরে ঢুকতেই পারে। সেক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়েরও ব্যবস্থা করেছে পুরুলিয়া পুর কর্তৃপক্ষ।
