সৌরভ মাজি, বর্ধমান: বিয়ের পর অতিরিক্ত পণের জন্য চাপ দেওয়া হত বধূর উপর। তা না দেওয়ায় অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত পণবাবদ ৮০ হাজার টাকা বাপের লোক দিতে না পারায় ওই বধূর ও তাঁর এক মাসের শিশুকন্যাকে হরিয়ানায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্ধমানের লক্ষ্মীপুর মাঠের কাঁটাপুকুর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মী দাস মেয়ে ও নাতনিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে বর্ধমান আদালতের দ্বারস্থ হন। সিজেএম আদালত বর্ধমান থানার আইসিকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে ওই গৃহবধূ ও তাঁর শিশুকন্যাকে উদ্ধারে প্রয়োজনে হরিয়ানায় যাবে বর্ধমান পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ্মীদেবীর মেয়ে দিপালী দাসের সঙ্গে বছর দুয়েক আগে পাপ্পু সিং নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। পাপ্পু সিং লক্ষ্মীপুর মাঠ এলাকায় এক আত্মীয়র বাড়িতে থাকতেন। তাঁর আদিবাসী রাজস্থানের হনুমানগড়ের টিবা এলাকায়। পাপ্পু সোনার গহনার কারিগর। বিয়ের সময় চাহিদামতো পণ দেওয়া হলেও বিয়ের পর থেকেই অতিরিক্ত পণের দাবি করে পাপ্পু। তা দিতে পারেননি লক্ষ্মীদেবী। এই নিয়ে মেয়ের উপর অত্যচার করা হত বলে অভিযোগ। বিযের ছয় মাস পর পাপ্পু দিপালীকে রাজস্থানের বাড়িতে নিয়ে যেতে চাপ দেয়। দিপালী তাতে রজি ছিলেন না। কিন্তু স্বামীর রোজগার ভাল হবে সেই আশায় সেখানে চলে যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর দিপালী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এরপরই পাপ্পু ও তাঁর বাড়ির লোকজন বাপের বাড়ি থেকে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য দিপালীর উপর চাপ সৃষ্টি করে।
কিন্তু লক্ষ্মীদেবী সেই টাকা দিতে পারেননি। এরপরই আচমকা বাপের বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা বন্ধ করে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। লক্ষ্মীদেবীকে পাপ্পুরা জানিয়ে দেয়, দিপালীকে হরিয়ানায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে যেন আর তাঁরা যোগাযোগ না করেন। এরপরই লক্ষ্মীদেবী থানায় যান। সেখান থেকে তাঁকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পুলিশ সুপারকে জানিয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় তিনি বর্ধমান সিজেএম আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।
