shono
Advertisement
RG Kar Case

তড়িঘড়ি দেহ সৎকারে চাপ! নির্মল-সহ তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর অভয়ার বাবার, ঠিক কী ঘটেছিল শ্মশানঘাটে?

গত ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়।
Published By: Kousik SinhaPosted: 10:51 AM Aug 11, 2026Updated: 02:03 PM Aug 11, 2026

অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পেরিয়ে গিয়েছে দু'বছর। একাধিকবার সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভয়ার মা-বাবা। আসল অভিযুক্ত কে বা কারা? সেদিন কী ঘটেছিল, এইসব প্রশ্ন নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর খোলা হয়েছে ফাইল। এহেন পরিস্থিতিতে অভয়ার সৎকারের সময় পানিহাটি শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা বারাকপুরের সিপিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর এরপরেই খড়দহ থানায় নতুন এফআইআর দায়ের করলেন অভয়ার বাবা। যেখানে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নয়া এই এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং জোরপূর্বক কাজ করানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে খবর। 

Advertisement

ঘটনার দিন কি ঘটেছিল, তা জানতে স্বাস্থ্যদপ্তরও নতুন করে একটি তদন্ত শুরু করেছে। যার রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরকে তুলে দেওয়া হবে বলে খবর।

অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠানে পানিহাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ''দেহ দাহ করার খরচ পর্যন্ত বাড়ির লোক দিতে পারেনি। বাড়ির লোককে সই করতে হয়। কিন্তু সেই সই ছিল না। নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায় এই কাণ্ড করেছেন। দাহ প্রক্রিয়ায় বেআইনি কাজ করা হয়েছিল।'' এরপরই বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে এই বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী দ্রুত যাতে অ্যাকশন নেওয়া হয়, সেই বার্তাও তিনি দেন। এরপরই খড়দহ থানায় নতুন করে একটি এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। অভিযোগে অভয়ার বাবার দাবি, ঘটনার দিন দ্রুত দেহ দাহ করে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ বাকি অভিযুক্তরা শ্মশানে দেহ নিয়ে যাওয়ার চাপ দেয়। একেবারে বাড়ি চলে আসেন তাঁরা। শেষশ্রদ্ধাটুকু জানানোর সময় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ অভয়ার বাবার। 

প্রসঙ্গত, গত ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। কলকাতা পুলিশের তরফে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। তবে নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি সিবিআই। অভয়ার বাবা-মায়ের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত রয়েছে। সিবিআইয়ের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাই কোর্টও। এহেন পরিস্থিতিতে নতুন করে সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। আগের তদন্তকারীর জায়গায় নতুন আধিকারিককে নিয়োগ করে শুরু হয়েছে তদন্ত। এমনকী ঘটনার দিন কি ঘটেছিল, তা জানতে স্বাস্থ্যদপ্তরও নতুন করে একটি তদন্ত শুরু করেছে। যার রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরকে তুলে দেওয়া হবে বলে খবর। এরমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর পুনর্তদন্তের নির্দেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement