সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া এবার দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের রবীন্দ্রনগরে তিনদিন মায়ের দেহ আগলে বসে রইল ছেলে। পরে দুর্গন্ধ বেরোতে প্রতিবেশীরা খোঁজ খবর নিলে, আসল ঘটনা সামনে আসে।
রবীন্দ্রনগরে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে থাকতেন তাঁর ছোট ছেলে ইন্দ্রদীপ। বড় ছেলে ইন্দ্রনীল বাড়ির কাছেই পরিবার নিয়ে থাকতেন। আচমকাই পচা গন্ধ বের হতে থাকে বৃদ্ধার বাড়ির আশেপাশে। খোঁজ নিতেই প্রতিবেশীরা দেখতে পান বৃদ্ধার দেহ আগলে বসে আছে ছোট ছেলে ইন্দ্রদীপ। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
[উচ্চশিক্ষায় আপত্তি, গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা]
রবিবার থেকে তাঁর মা খাওয়া দাওয়া করছেন না বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ইন্দ্রদীপ। কিন্তু কেন খাচ্ছেন না বা নড়াচড়া করছেন না, তা তিনি বুঝতে পারেননি। এমনকি কোনও গন্ধও তিনি পাননি বলেও জানিয়েছেন ইন্দ্রদীপ। পুলিশ এসে গোটা বাড়িতে তল্লাশি চালায়। উদ্ধার করা হয় বৃদ্ধার মৃতদেহ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে রান্না করা খাবার। পুলিশ জানিয়েছে বিছানার মধ্যে বৃদ্ধার দেহ পড়েছিল। পচন ধরেছিল সারা শরীরে। প্রতিবেশীরাই পুলিশে খবর দেন।
এদিকে, বাড়ির কাছেই থাকতেন বৃদ্ধার বড় ছেলে ইন্দ্রনীল। এতদিন ধরে মায়ের খবর তিনি কেন নেননি, তা নিয়ে রীতিমতো ধন্দে পুলিশ। তিনিও কোনও গন্ধ পাননি, কিছুই জানতেন না বলে সাফাই দিলেও, এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মায়ের সাড়া না পেয়ে ছোট ভাই ইন্দ্রদীপ কেন দাদার কাছে যাননি, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে রহস্য।
[নীল তিমি রুখতে স্কুলে চিঠি দিচ্ছে লালবাজার]
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে রবিনসন স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে এক মহিলা এবং দুটি পোষ্য কুকুরের কঙ্কাল উদ্ধারের করে কলকাতার পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর জানায়, রবিনসন স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাটের জানালা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। দমকলকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে শৌচাগারের বাথটব থেকে অরবিন্দ দে (৭৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাঁর ছেলে পার্থ দেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে ওই ফ্ল্যাট থেকেই কাপড় জড়ানো অবস্থায় তিনটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পার্থ দে ছমাস ধরে ওইভাবেই থাকতেন বলে জানতে পারে পুলিশ।
The post রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া দুর্গাপুরে, ৩ দিন মায়ের মৃতদেহ আগলে ছেলে appeared first on Sangbad Pratidin.
